গোবিন্দগঞ্জে জমি দখল, অবৈধ নির্মাণ ও হামলার অভিযোগ—অভিযোগপত্রের বর্ণনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর বিশেষ প্রতিবেদন রংপুর সারাদেশ স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বুজরুক বোয়ালিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্রে সশস্ত্র হামলা, অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ, ভুয়া চিকিৎসা কার্যক্রম এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগের বর্ণনা উঠে এসেছে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন আবু সোয়াইব মুনতাসির আকন্দ। এতে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে ঘিরে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার ধারাবাহিক বর্ণনা উপস্থাপন করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগপত্রে বর্ণিত হামলার বিস্তারিত : অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে মোঃ নূর আমিন এবং তার পিতা মোঃ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে ২০–২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল বুজরুক বোয়ালিয়া (হীরকপাড়া) এলাকায় ভুক্তভোগীর বসতবাড়িতে হামলা চালায়।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী— হামলাকারীরা বাড়ির দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়, এর আগে ২৫ জুন শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও করা হয়, অভিযোগপত্রে বলা হয়, এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

অবৈধ জমি দখল ও বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ : অভিযোগপত্রের আরেক অংশে বলা হয়, বিবাদী মোঃ নূর আমিন বুজরুক বোয়ালিয়া মৌজার নির্দিষ্ট তফসিলভুক্ত জমিতে জোরপূর্বক দখল করে বিল্ডিং কোড ও সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।

তফসিল অনুযায়ী অভিযোগে উল্লেখ করা তথ্য হলো— মৌজা: বুজরুক বোয়ালিয়া,  জে.এল নং: ২৪৪, খতিয়ান নং: ২৬৭০, হাল দাগ: ৬০১, মোট জমি: ৭২.২৫ শতক, নালিশী অংশ: ৫.৫০ শতক
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, এই নির্মাণ কার্যক্রমের কারণে পার্শ্ববর্তী বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভুয়া চিকিৎসা ও ক্লিনিক পরিচালনার অভিযোগ : অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় ‘মডার্ণ ক্লিনিক’ ও ‘মডেল ডায়াবেটিস সেন্টার’-এ কোনো নিবন্ধিত বা অভিজ্ঞ চিকিৎসক নেই।, অভিযোগপত্র অনুযায়ী— পরিচালক মোঃ নূর আমিন।

নিজেই ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা দেন : রোগীদের ভুল ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সুযোগ নিয়ে অস্ত্রোপচার পরিচালনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ : অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকার সুবাদে প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে— চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন : অভিযোগপত্রে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হয়— অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করা, জমির সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। এ বিষয়ে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে— স্থানীয় সংসদ সদস্য (গাইবান্ধা-৪), জেলা প্রশাসক, গাইবান্ধা।

এলাকাজুড়ে উত্তেজনা : অভিযোগপত্রকে ঘিরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র অভিযোগপত্রে উল্লিখিত তথ্য ও বর্ণনার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে; অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

👁️ 20 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *