
নইন আবু নাঈম তালুকদার (শরণখোলা) : বাগেরহাটের শরণখোলায় সোনালী ব্যাংক লিমিটেড রায়েন্দা বাজার শাখা থেকে মোমেনা আক্তার নামের এক গ্রাহকের একাউন্ট থেকে স্মার্ট কার্ড হ্যাকিং করে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে হ্যাকাররা এমন অভিযোগ করেছেন ওই গ্রাহক।

তবে ওই গ্রাহকের মোবাইলে বেশকিছু মেসেজ ও ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে ৪ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার মেসেজ আসার পর তা ডিলিট হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি ম্যানেজারকে অবহিত করলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ না দিয়েই ব্যাংকের কাজে ব্যস্ত আছেন এমন কথা বলে ফোনটি কেটে দেন। গত পহেলা জুলাই শরণখোলার উপজেলার শেরেবাংলা রোডস্থ সোনালী ব্যাংক লিমিটেড রায়েন্দা বাজার শাখায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক মোমেনা আক্তার বলেন, তিনি পেশা একজন প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক বর্তমানে ট্রেনিং এ বাগেরহাট পিটিআই তে রয়েছেন। হঠাৎ ওইদিন দুপুর একটার দিকে তার মোবাইলে বেশ কিছু মেসেজ আসে এবং তা আবার ১০/১২ মিনিট পর আপনা আপনি ডিলিট হয়ে যায়।

এতে তিনি সন্দেহ করেন যেকোনো সমস্যা হয়েছে এবং কিছুক্ষণ পর দেখেন সোনালি ব্যাংক রায়েন্দ বাজার শাখার তার হিসাব নাম্বার ২৯১৩২০১০ ২৭০৩৭ থেকে ৪হাজার টাকার একটি মেসেজ এসেছে যে তার এটিএম কার্ড থেকে তোলা হয়েছে তখন তার সন্দেহ হয় যে তিনি তো এটিএম কার্ড ব্যবহার করে কোন টাকা তোলেননি তাহলে টাকা উত্তোলন করল কে?

তাৎক্ষনিক তিনি বিষয়টি শরণখোলা উপজেলার সোনালী ব্যাংক লিমিটেড রায়েন্দা বাজার শাখার ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম কে বিষয়টি অবহিত করেন। ওই দিন পহেলা জুলাই ব্যাংকের কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি তার কথার গুরুত্ব না দিয়ে ফোনটা কেটে দেন। পরের দিন ২ জুলাই গ্রাহক তার একাউন্ট চেক করে গেলে দেখে তার একাউন্ট থেকে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা হ্যাকাররা স্মার্ট কার্ড হ্যাকিং করে নিয়ে গেছে।
গ্রাহক মোমেনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম যদি তার কথা শুনে তার অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করে দিতেন তাইলে তার হ্যাকাররা তার টাকা নিতে পারত না। এবং তিনি আরো বলেন ম্যানেজার তার সাথে ভালো ব্যবহার করেননি। এ বিষয়ে ব্যাংকের এক অফিসার বলেন বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল হ্যাক করে ফস পার্সেস এবং পয়েন্ট অফ সেল এর মাধ্যমে এই টাকা টাকা নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা বাজার শাখার ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই গ্রাহকের স্মার্ট কার্ডের গোপন নাম্বার যেকোনো ভাবে হ্যাকাররা জানতে পেয়ে তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিয়েছে। অন্যদিকে পহেলা জুলাই সারা বাংলাদেশে ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ থাকায় গ্রাহকের কথা শুনে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা সম্ভব হয়নি। তবে অসহযোগিতার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
