
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আর দেখা যাচ্ছে না, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা-কল্পনা।

শাওনের ঘনিষ্ঠজন ও লেখক তামান্না সেতু দাবি করেছেন, বিপুলসংখ্যক রিপোর্টের কারণে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ শাওনের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচিত পোস্টটিও শাওন নিজে মুছে ফেলেননি। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে শাওনের নিজস্ব কোনো বক্তব্যও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে মেটা কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাকাউন্টটি কেন অদৃশ্য হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় শাওনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের কোনো রায় বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে— একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অদৃশ্য হয়ে যাওয়াই কি বিতর্কের সমাপ্তি? নাকি অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোর যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটন হওয়া উচিত?
অনেকেই মত দিচ্ছেন, যদি কারও বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা অন্য কোনো দণ্ডনীয় অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তদন্ত করবে এবং পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিপোর্টের মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়া এবং কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের বিচার—এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। একটি বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম নীতিমালার আওতাভুক্ত, অন্যটি রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার বিষয়।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে একাংশের ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলছেন, অভিযোগগুলো যদি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার যোগ্য হয়, তবে তদন্তের অগ্রগতি কী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে—সে বিষয়ে জনগণকে স্পষ্ট তথ্য জানানো প্রয়োজন। আবার অন্য একটি পক্ষ বলছে, শুধুমাত্র সামাজিক চাপ বা জনমতের ভিত্তিতে নয়, আইনি প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই যে কোনো সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বহুল আলোচিত এ ঘটনায় নানা দাবি-প্রতিদাবির ভিড়ে গুজব নয়, বরং তথ্যভিত্তিক তদন্ত, আইনের শাসন এবং স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়াই হতে পারে জনমনের প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য উত্তর।
