
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১৭ বছরে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বহু কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য, বঞ্চনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছেন—এমন মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাদের পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত মোট ১৫০ জন সামরিক কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, বকেয়া আর্থিক সুবিধা এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার লক্ষ্যে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের আমলে বৈষম্যের শিকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ১৪ জন কর্মকর্তাকে এই সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়েছে।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, যেসব কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল, তাদের বিধি অনুযায়ী স্বাভাবিক অবসর অথবা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বকেয়া বেতন-ভাতা, আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সুবিধা এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের অন্যতম আলোচিত নাম সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ২০০৯ সালের ২৪ জুন অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাকে ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হিসেবে মেজর জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতিসহ বয়সসীমা শেষে স্বাভাবিক অবসর প্রদান করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আবদুল্লাহিল আমান আযমী তার প্রাপ্য সময়ের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধার পাশাপাশি বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে ১ কোটি টাকা পাবেন। এছাড়া বয়স ও যোগ্যতা সাপেক্ষে তাকে যেকোনো সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগও রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক বাহিনীর একাংশের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক বিবেচনা, প্রশাসনিক বৈষম্য এবং প্রতিহিংসামূলক সিদ্ধান্তের কারণে পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়েন। অনেকেই দাবি করে আসছিলেন, তাদের স্বাভাবিক ক্যারিয়ার অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে এবং কেউ কেউ গুম, নির্যাতন, হয়রানি ও নানা ধরনের রাষ্ট্রীয় চাপেরও শিকার হয়েছেন। সরকারের সর্বশেষ এই উদ্যোগকে সেই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপটে পুনর্বাসনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ন্যায়বিচার, পেশাগত নিরপেক্ষতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে অতীতের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর পুনর্মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অভিমত, যেসব কর্মকর্তা প্রকৃতপক্ষে অন্যায়, বৈষম্য বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে।
