
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)—দেশের বৃহত্তম ওপেন লার্নিং প্রতিষ্ঠান—বর্তমানে নিয়োগ, পদোন্নতি ও ক্রয়সংক্রান্ত ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের বিরুদ্ধে সীমাহীন নিয়োগ-বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সুশাসন ও স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিতের ঘোষণা দিলেও বাউবিতে কার্যত উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে—এমনটাই দাবি করেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একাংশ।

নিয়োগে ‘আই ওয়াশ’ পরীক্ষা, আগেই নির্ধারিত প্রার্থী : ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোর্ড ও গভর্নরস সভায় ফল অনুমোদন করা হয় এবং একই রাতেই নিয়োগপত্র তৈরি করে পরদিন সকালে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে—কোন পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তা পরীক্ষা শুরুর আগেই নির্ধারিত ছিল। পরীক্ষা ছিল কেবল ‘আই ওয়াশ’।

কোটি টাকার নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ : বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দাবি—শিক্ষক পদে নিয়োগ পেতে ৩০-৪০ লাখ টাকা
কর্মকর্তা পদে ১৫-২০ লাখ টাকা , কর্মচারী পদে ১০-১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে, এমনকি একটি আওয়ামী ঘরানার প্রভাবশালী পরিবারের চার সদস্য ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ নিয়োগে ওই পরিবারের একজন কর্মচারীর মেয়ে ও জামাই প্রায় ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগ পেয়েছেন—এমন অভিযোগ ঘুরছে ক্যাম্পাসজুড়ে।


আওয়ামী ফ্যাসিবাদী নেটওয়ার্কের পুনর্বাসনের অভিযোগ : অভিযোগ রয়েছে—উপাচার্য নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করলেও জামায়াতপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করে রেখে আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তাদের কাছে টেনে নিয়ে একটি দুর্নীতিবলয় গড়ে তুলেছেন। এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চুক্তিভিত্তিক ক্যামেরাম্যান মেয়র তালুকদার ও ট্রেজারার শামীম—যারা নিয়োগ-বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন তদারক করেন বলে অভিযোগ।
গাড়ি ক্রয় ও নির্বাচনী ফান্ডে অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ :
বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সংকটের মধ্যেই সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি সেকেন্ড হ্যান্ড মরিচাধরা গাড়ি নতুন হিসেবে কেনা হয়েছে—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
আরও অভিযোগ—বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করে বাগেরহাট-৪ আসনে সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়েছে, যা সরকারি সম্পদের অপব্যবহার বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক বদলি : দুর্নীতি ও অপ্রয়োজনীয় বাজেটের বিরুদ্ধে কথা বলায় অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালককে পদনমন করে আঞ্চলিক কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। একইভাবে একাধিক পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালকের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীন সংযুক্তি ও অপদস্থ বদলির অভিযোগ উঠেছে।
মানববন্ধন ও অপসারণ দাবি : বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সম্প্রতি দুর্নীতি, অপশাসন ও ট্রেজারার শামীমের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

অতীতেও বিতর্কিত অভিযোগ : উল্লেখযোগ্যভাবে, ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা সিটি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি থাকা অবস্থায়ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগের মুখে পড়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা :পদ শূন্য হওয়ার আগেই রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। রেজিস্ট্রার ও সেকশন অফিসার পদে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত কমিয়ে নিজস্ব লোককে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নিয়োগ কার্যক্রম সম্পাদন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও বদলী করা হয়েছে। একই পরিবার হতে চারজন কে নিয়োগ। তার মধ্যে একই নিয়োগ পরিক্ষায় দুই জনকে নিয়োগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী গাজীপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছেলে তাকে বদলী না করে পুনর্বাসন করেছে। সংগীতা মোর্শেদ, যুগ্ম পরিচালক, আওয়ামী চেতনার লোক। ৫ আগস্টের পত তার স্বামী পলাতক, ও সকারের সচিব। তাকেও পুনর্বাসন করা হয়েছে।
একই দিনে ভাইভা নেওয়ার পর সন্ধ্যায় বোর্ড অব গভর্নরস মিটিংএ অনুমোদন ও রাতেই নিয়োগ পত্র প্রদান এবং পরদিন সকালে যোগদান। যা থেকে দুর্নীতি স্পস্ট প্রমানিত হয়।
১.পদ শূন্য হওয়ার আগেই রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। ২.রেজিস্ট্রার ও সেকশন অফিসার পদে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত কমিয়ে নিজস্ব লোককে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। ৩.ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নিয়োগ কার্যক্রম সম্পাদন। ৪.নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও বদলী করা হয়েছে।৫.একই পরিবার হতে চারজন কে নিয়োগ। তার মধ্যে একই নিয়োগ পরিক্ষায় দুই জনকে নিয়োগ। ৬.একই দিনে ভাইভা নেওয়ার পর সন্ধ্যায় বোর্ড অব গভর্নরস মিটিংএ অনুমোদন ও রাতেই নিয়োগপর প্রদান এবং পরদিন সকালে যোগদান। যা থেকে দুর্নীতি স্পস্ট প্রমানিত হয়
৭.বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী গাজীপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছেলে তাকে বদলী না করে পুনর্বাসন করেছে
৮.সংগীতা মোর্শেদ, যুগ্ম পরিচালক, আওয়ামী চেতনার লোক। ৫ আগস্টের পত তার স্বামী পলাতক, ও সকারের সচিব। তাকেও পুনর্বাসন করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপ : একদিকে সরকার ঘোষিত সুশাসনের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে বাউবিতে অভিযোগের পাহাড়—নিয়োগ-বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী পুনর্বাসন, নির্বাচনী ফান্ড জোগাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
