ঢাকা ৯-এ নতুন রাজনৈতিক ঝড় : ডাক্তার তাসনিম জারার ইশতেহারে অবহেলার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা

Uncategorized জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলিত নির্বাচনী এলাকা ঢাকা–৯। গুলশান-বনানীর সমান ট্যাক্স দিয়েও যেখানে নাগরিকরা পান তৃতীয় শ্রেণীর সেবা। ভোট আসে, ভোট যায়—নেতারা উধাও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাষ্ট্র তাদের শুধু ‘রাজস্বের উৎস’ হিসেবেই দেখে।


বিজ্ঞাপন

এই প্রেক্ষাপটে রাজনীতির মাঠে চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। নিজেকে ‘পেশাদার রাজনীতিবিদ’ নয়, বরং “এই এলাকার মেয়ে” পরিচয়ে সামনে এনে ঘোষণা দিয়েছেন— “ঢাকা ৯-কে অবহেলার দিন শেষ।” তার নির্বাচনী ইশতেহার ইতোমধ্যে এলাকায় আলোড়ন তুলেছে। কারণ এতে আছে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়—সরাসরি সিস্টেম বদলের ঘোষণা।

গ্যাস নেই, কিন্তু বিল আছে—ডা. জারার ‘No Service, No Bill’ বোমা : ঢাকা ৯-এর সবচেয়ে বড় ভোগান্তি—গ্যাস সংকট। মাস শেষে বিল আসে, কিন্তু চুলায় জ্বলে শুধু বাতাস।


বিজ্ঞাপন

ডা. জারার ঘোষণা— “সেবা না দিলে বিল নেই—এই আইন সংসদে তুলব। গ্যাস না দিলে তিতাস টাকা নিতে পারবে না।”
একই সঙ্গে পাইপলাইন ব্যর্থতার দায়ে ন্যায্য দামে এলপিজি সরবরাহ, সিন্ডিকেট ভাঙা, এবং রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা ঠিকাদারদের জরিমানা—সবই ইশতেহারে স্পষ্ট। জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পার্ক উন্নয়ন—সবকিছুতে ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।


বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যখাতে ডাক্তারই যখন নেতৃত্বে—মুগদা হাসপাতাল হবে আদর্শ সেবাকেন্দ্র, ৭–৮ লাখ মানুষের এলাকায় মাত্র একটি বড় হাসপাতাল—মুগদা মেডিক্যাল। ডা. জারার ভাষায়,
“এটা নিষ্ঠুর কৌতুক।” সমাধান হিসেবে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন— মুগদা হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার-নার্স নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা, পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিককে ‘মিনি হাসপাতাল’, এবং সারা বছরব্যাপী ডেঙ্গু টাস্কফোর্স—যেখানে বর্ষার আগেই মশা নিধনের স্থায়ী ব্যবস্থা থাকবে। নারীস্বাস্থ্যেও বিশেষ অগ্রাধিকার—গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, নারী-বান্ধব টয়লেট নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।

মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘এক বিন্দু ছাড় নয়’ ঘোষণা :
খিলগাঁও-বাসাবো এলাকায় সন্ধ্যার পর নারীদের নিরাপত্তাহীনতা—এটাই বাস্তবতা। ডা. জারার কণ্ঠে কঠোর বার্তা— “মাদক ব্যবসায়ীদের এক বিন্দু ছাড় নয়।”

তার পরিকল্পনায় রয়েছে— নিরাপদ করিডোর: স্কুল, গার্মেন্টস সড়কে সিসিটিভি ও শক্তিশালী লাইট, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, কিন্তু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক যুদ্ধ, নারীবান্ধব পরিবহন ও সংরক্ষিত আসন বাস্তবায়ন, শিক্ষায় এমপির কোটা থাকবে না—ভর্তি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত এবং ঢাকা ৯-এর স্কুলভিত্তিক ভর্তি বাণিজ্য নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ডা. জারা। “আমি এমপি হলেও কোনো সুপারিশ কোটা থাকবে না।”

প্রতিশ্রুতিগুলো— আধুনিক সায়েন্স ল্যাব ও লাইব্রেরি, কোডিং ও এআই শেখার সুযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং
অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম বাধ্যতামূলক ‘স্টার্টআপ ঢাকা ৯’—তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সিড মানি, বেকার তরুণদের জন্য জামানত ছাড়া সহজ ঋণ, কর্মজীবী মায়েদের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক ডে-কেয়ার, অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষা—সবই ইশতেহারে যুক্ত। পাশাপাশি ই-কমার্স প্রশিক্ষণ দিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল বাজারে যুক্ত করার পরিকল্পনা।

এমপি নয়—২৪ ঘণ্টার জনসেবক : সবচেয়ে আলোচিত ঘোষণা— নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে স্থায়ী অফিস, সন্ধ্যায় খোলা থাকবে অফিস এবং ডিজিটাল অভিযোগ ড্যাশবোর্ড, কোনো প্রটোকল বা দালাল ছাড়াই সরাসরি সাক্ষাৎ। তার স্পষ্ট বক্তব্য— “আমি অতিথি পাখি নই, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ‘স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতীক’ হিসেবে আবির্ভাব : ডা. তাসনিম জারা বলছেন— “আমি ফাঁকা বুলি দেই না। এটা আপনাদের সঙ্গে আমার চুক্তি।” তিনি ভোট চাইছেন ‘ফুটবল’ মার্কায়— গ্যাস-পানির অধিকার, মাদকমুক্ত সমাজ ও মানবিক ঢাকা ৯ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে।

শেষ বার্তায় তিনি বলেন— “একজন ডাক্তার জানে রোগ কোথায়, ওষুধ কোনটা। এবার ডাক্তারকে সুযোগ দিন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,  ঢাকা ৯-এর ভোটের মাঠে এবার শুধু প্রার্থী নয়— একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। ‘ফুটবল’ কি এবার ঢাকার মাঠে গোল দেবে? উত্তর দেবে ভোটের দিন।

👁️ 68 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *