রাজনৈতিক শিষ্টাচার বনাম রাষ্ট্রীয় সম্মান—প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আচরণে জনমনে তীব্র ক্ষোভ

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  : রাজনীতির ময়দানে শিষ্টাচার এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ যখন ভূলুণ্ঠিত হয়, তখন তা কেবল বিশৃঙ্খলাই তৈরি করে না, বরং রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও নাড়িয়ে দেয়। সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী খালিদুজ্জামানের সেনাবাহিনী নিয়ে করা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে রাজধানীজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। সাধারণ মানুষ এখন ২০২০ সালের সেই আলোচিত ‘ইরফান সেলিম’কাণ্ডের উদাহরণ টেনে প্রশাসনের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।


বিজ্ঞাপন

স্মৃতিতে ধানমন্ডির সেই রাত: আইনের শাসন বনাম বর্তমান পরিস্থিতি  :  ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর ধানমন্ডিতে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধরের দায়ে তৎকালীন সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ক্ষমতাধর পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে ৮ মাস জেল খাটতে হয়েছিল। তৎকালীন সরকার প্রধানের সেই কঠোর পদক্ষেপ ছিল আইনের শাসনের এক বড় দৃষ্টান্ত।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—২০২৬ সালে এসে কি সেই আইনের শাসন শিথিল হয়ে পড়েছে? বর্তমান সময়ে ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী খালিদুজ্জামান এবং ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থীদের আচরণ ও মন্তব্য ইরফান সেলিমের সেই ঘটনাকেও হার মানিয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।


বিজ্ঞাপন

ঢাকা-১৭ আসনের পরিস্থিতি : সেনাবাহিনীর প্রতি চরম অবমাননা
ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী খালিদুজ্জামান সম্প্রতি সেনাবাহিনীকে কেন্দ্র করে যে ধরণের কুরুচিপূর্ণ এবং উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা দেশের ইতিহাসে বিরল। প্রত্যক্ষদর্শী ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সূত্রে জানা যায়, তিনি কর্তব্যরত সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্য করে ‘পা চাটা বাহিনী’র মতো আপত্তিকর বিশেষণ ব্যবহার করেছেন।


বিজ্ঞাপন

একজন রাজনৈতিক নেতার মুখে এ ধরণের ‘হ্যাঁ-সূচক’ ও অসাংবিধানিক ভাষা কেবল অভদ্রতা নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সরাসরি অবমাননা। জনগণের অভিযোগ, যে সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, তাদের নিয়ে এমন মন্তব্য করার সাহস এই প্রার্থীরা পাচ্ছেন কীভাবে?

প্রশাসনের নীরবতা ও জনগণের প্রশ্ন  :  ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী ডাক্তার খালেদুজ্জামান এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী খালিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই বৈষম্যমূলক আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

জনগণের ভাষ্য: “ইরফান সেলিমের বিচার হলে খালিদুজ্জামানের কেন হবে না?”” সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব। তাদের নিয়ে যারা এমন কথা বলে, তারা নেতৃত্বে থাকার যোগ্য নয়। “”প্রশাসনের এই নীরবতা বাহিনীর আত্মসম্মানে আঘাত হানছে এবং জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ণ করছে।”

বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি সংকট  :  বিষয়টি কেবল দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং প্রবাসীরাও বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই গুণগত অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা মনে করছেন, যদি এখনই এই ধরণের নোংরা রাজনীতির মানসিকতা পোষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের মানুষের দাবি  :  জনগণ এবং রাষ্ট্রের সকল বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা—প্রশাসন দ্রুত ঘুম ভেঙে জেগে উঠবে। যারা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে অবজ্ঞা করছেন, তাদের রাজনৈতিকভাবে বর্জন করতে হবে। ডাক্তার খালেদুজ্জামান এবং খালিদুজ্জামানের মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হবে জনগণের ক্ষোভ প্রশমনের একমাত্র পথ।

👁️ 18 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *