তিনি সাংবাদিক না,সাংঘাতিক ?

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  চতুর্থ প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত মহান পেশা সাংবাদিকতা।যা জনকল্যাণ ও ন্যায়ের জবাবে আপোষহীন এক লেখনী যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের যোদ্ধা সাংবাদিক। সাংবাদিক এর কলম কথা বলে সমাজে ঘটে যাওয়া অন্যায়, অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে। কিন্তু সাংবাদিকতার পরিচয় বহন করে যখন কোন ব্যক্তি, নিজ স্বার্থ ও অপরাধকে সংগঠনে মরিয়া তখন কি তাকে সাংবাদিকতা বলে?


বিজ্ঞাপন

জারা হায়াত! এই জারা হায়াত নামটি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকলেও প্রকৃত অর্থে তথ্য মিলে তিনি অপরাধ জগতের এক কুখ্যাত লেডি সুপারস্টার। মাদক সেবন,মাদকের বাহক,অনলাইন জুয়া,হানিট্রাপ, চাঁদাবাজী,ব্ল্যাকমেইল,প্রশাসনকে ব্ল্যাকমেইল এর অপচেষ্টা, নারী সাপ্লাই, অনলাইন ডেটিং এ্যাপ এর সক্রিয় এজেন্ট, ভূয়া পরিচয়ধারী,আওয়ামী দোসর, সহ হানিট্রাপের মাধ্যমে বহু বিবাহ সম্পন্নকারী,অন্যের অর্থ আত্মসাৎ কারী সহ ভিক্ষুককে মারাত্মকভাবে লাঞ্চিত করে অর্থ আত্মসাৎ এর চেষ্টা ও জুলাই ছাত্র হত্যা মামলার আসামী সহ কি নেই তার অপকর্মের ঝুলিতে????

চাঁদপুর এর গুনবতি ছোট সেই দ্বীপ এলাকা থেকে মৃত মাসুম সরকার সংসারের টানপোড়েনে ছুটে আসে ঢাকায়। ৩ছেলে ও ২মেয়ে সহ মোট ৭জনের এই পরিবারটি অবস্থান করে ঢাকার মিরপুরে।৫ সন্তানের মধ্য তৃতীয় সন্তান ও বড় মেয়ে সেলিনা আক্তার। ২০০৮ সালে বিয়ে হয় তার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আলীর(মুন্না) সাথে। ২টি কন্যা সন্তান হাফসা ও নাফিসা জন্ম নেওয়ার পরে অর্থ চাহিদা বেশি ও বিলাশি জীবন যাপন এর প্রতি গভীর লোভে আকৃষ্ট হয়ে ২০১৮ সালে স্বামীকে ত্যাগ করেন সেলিনা আক্তার রত্না ওরফে কথিত জারা হায়াত।


বিজ্ঞাপন

সাংসারিক শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে এসে নিজের লোভ ও অর্থ পিপাসা মিটাতে জড়িয়ে পড়েন অপরাধের জগতে। সংযোগী হিসেবে সাপে বর পায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ভাই ব্লেড বাবু ও মাইন উদ্দীন মনার ছত্রছায়ায়।শাহ -আলী থানা এলাকায় মনা ও ব্লেড বাবুর অপরাধকে শক্তিশালী করতে নামধারী এই ছদ্মবেশী সাংবাদিক জারা হায়াত ভাইকে তৈরী করে পুলিশের সোর্স হিসেবে।


বিজ্ঞাপন

গোিপনে মাদকের ব্যবসা শুরু করে ৩ভাই বোন।বোন সেলিনা আক্তার ও ভাই মনা, এবং ব্লেড বাবুর অপরাধের জগতকে আরো বিস্তৃত করতে বোন জারা খুঁজতে থাকে রাজনৈতিক পাওয়ার।সোনার হরিণ হিসেবে সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন মোহন এর সাথে নারী সাপ্লাই এর মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে বর্তমানের এই ছদ্মবেশী জারা হায়াত।

আওয়ামী পাওয়ার পেয়ে রাতারাতি তিনি বনে যান সাংবাদিক নামের সাংঘাতিক। পুলিশের সোর্স ভাই মনা নিজেই পরিচয় দিতে থাকেন শাহআলী থানার এসআই।

নারকীয় তান্ডব চালাতে থাকেন শাহআলী, আদাবর, মোহাম্মদপুর, রূপনগর, মিরপুর সহ প্রায় সমগ্র ঢাকাতে, প্রভুখ্যাত  বস মোহনকে খুশি করতে শুধু নারী সাপ্লাই নয় মাঝে মাঝে তেলবাজি করে নিজের নাম উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করতেন ঐ সময় কর্মরত সময়ের কন্ঠ পত্রিকায়।

ফলশ্রুতিতে সুপার পাওয়ার এর আর্শিবাদে ধরাকে সরা জ্ঞান করা ছেড়ে দেয় এই অপরাধের সম্রাজ্ঞী জারা হায়াত। তার দেওয়া কিছু সরল স্বীকারোক্তি প্রমান করে কতটা ভয়ঙ্কর ছিলেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায় সুজন নামের জৈনক এক যুবকের সাথে বিবাহ বহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এই জারা হায়াত ওরফে সেলিনা।মনমালিন্য হলে পরবর্তীতে নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও।

২০২৪ এ এসে বেপরোয়া জারা হায়াত সাংবাদিকতা এবং আওয়ামী শক্তির জোরে হানিট্রাপের মাধ্যমে ৫ই মে ২০২৪ ৫লক্ষ টাকা দেনমোহরে ২য় বিয়ে করেন সাইফুল ইসলাম নামের চট্টগ্রামের এক যুবককে। এখানেও অপকর্মের শেষ নেই জারা হায়াত পরিচয় দান কারী এই কুকর্মের রানী মহিলার। ভূয়া জন্ম নিবন্ধন, মেজোভাই মনাকে এসআই পরিচয় দেওয়া ও বড় ভাইকে উপজেলা চেয়ারম্যান এর ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সাইফুলদের ঢাকার বুকে থাকা এক খন্ড জমি।

অপকর্মের আচ পেয়ে নওসাদ নোয়াখালীতে চলে গেলে ফিল্মি স্টাইলে তার বাড়িতে গিয়ে ঘটায় এক মানহানিরকর ঘটনা।আওয়ামীলীগ এর সাবেক সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর আস্থাভাজন সাখাওয়াত হোসেন মোহন এর সহযোগিতায় ২০-২৫ জন গুন্ডা নিয়ে উপস্থিত হয় সাইফুল ইসলাম নওশাদ এর বাড়িতে, পরে তুলে নেওয়া হয় থানায় এই ঘটনার একদিন পরে ১পহেলা আগষ্ট ২০২৪ সাইফুল ইসলাম তালাক দেন জারা হায়াত নামের ছদ্মবেশীকে।৪আগষ্ট জারা হায়াত ভ্রুনহত্যা ও নারী নির্যাতন এর মামলা করেন ঢাকা কোর্টে।

পতিত আওয়ামী লীগ এর দাপট হারালেও জারা হায়াত ওরফে রত্না সক্রিয় হয় সাংবাদিকতাকে পুঁজি করে। মোহনা নামের এক ডিভোর্সী মহিলাকে বাসায় স্থান দিয়ে তার অসহায়ত্তের সুযোগ নিয়ে তাকে সাপ্লাই করে বিভিন্ন মহলে,মোহনার দাবি তাকে ধানমন্ডিতে সাখাওয়াত হোসেন মোহনের কাছেও রূমডেট করতে নিয়ে যায় এই জারা হায়াত। মাদক সেবন,অনলাইন ডেটিং এ্যাপ ও হানিট্রাপে যুক্ত করেন মোহনাকে।জিম্মি করতে ছেলে পৃথিবী ও তার পাসপোর্ট জব্দ করেন এই জারা।তার প্রস্তাবে পরবর্তীতে রাজী না হওয়ার বেধড়ক মারপিটের শিকারও হতে হয় মোহনাকে।

বর্তমানে তিনি সন্তান ও নিজের পাসপোর্ট উদ্ধারে দিশেহারা হয়ে ঘুরছেন।মোহনার দাবি থানা পুলিশ তার পকেটে। সে চিত্রের সত্যতা মেলে কথিত জারা হায়াত এর মুঠোফোনের কিছু এসএমএস ও ভয়েজ থেকে।২০২৫ সালে আবারও মাদকের আসর থেকে সখ্যতা গড়ে তুলে জারা হায়াত তৃতীয় বিয়ে করেন

মেহেরাজ হোসেন ফাইম নামের ফার্মেসী ব্যবসায়ীকে।বিয়ের পরে জারার কুচরিত্র সামনে আসায় আপ্রাণ চেষ্টা করে ও স্বাভাবিক জীবনে আনতে ব্যর্থ হয়ে ফাইম তাকে দেনমোহরের টাকা অনেকটা গোপনে বুঝিয়ে দিয়ে আলাদা অবস্থান করে।পরবর্তীতে জারা হায়াত ডিভোর্স দেয় ফাইমকে।

ডিভোর্স এর পরেও বিভিন্ন সময় টাকা চেয়ে ও পুনরায় তাকে বিয়ে করার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে বলে জানান মেহেরাজ হোসেন ফাইম।

মানবিকতার নুন্যতম বিবেচনাবোধহীন এই পশু স্বভাবের জারা হায়াত ও তার ভাই মনা মিলে রূপনগর থানার এক অসুস্থ ভিক্ষুকের টাকা আত্মসাৎ এর লক্ষ্যে ভয়ভীতি ও প্রাননাশের হুমকি সহ অকথ্য ভাষায় গালাগালি করলে অনাথ প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক থানা ও ডিসি অফিসে লিখিত অভিযোগ সহ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন।পুলিশের সাথে গোপন সখ্যতার জেরে আজও ভিক্ষুক হাফসা তার পাওনা টাকার ১২ হাজার টাকা তুলতে ব্যর্থ।

এদিকে মোট তিনটি বিবাহের দুইটি বিবাহ সহ একাধিক সুযোগ সুবিধা ও আইনি লড়াইয়ে ব্যবহার করা জন্ম নিবন্ধন ও কারিকুলাম ভেটে তার দেওয়া পরিচিতিতে রয়েছে চরম অনিয়ম।বরগুনা পৌরসভার আওতায় করা জন্মনিবন্ধনে স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া ডেমরা।নিবন্ধন নম্বরটি প্রতারণার মাধ্যমে স্থাপন করা।সরকারী ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেও প্রায় সব জানা কম্পিউটার ও ব্যর্থ হয় তার পরিচয় খুজে পেতে।

তািহলে এই জারা হায়াত কে?কি তার সত্যিকার নাম?কেন পরিবর্তন তার এই নামের ও স্থায়ী ঠিকানার? ১৯৯২ এ জন্ম নেওয়া সেলিনা আক্তার ২০২৪ এ এসে নকল জন্ম নিবন্ধন তৈরীর প্রয়োজনীয়তা কেন তার? আদৌও কি তিনি কোন স্বাভাবিক জীবনের মানুষ? নাকি পরিচয় গোপন করা চিরাচরিত অপরাধীদের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করা কোন অপরাধের বরকন্যা?

গলায় ঝুলানো ফিদা ও স্থানীয়দের কাছে দেওয়া পরিচয় অনুযায়ী তিনি সরেজমিন বার্তাতে দ্বায়িত্বরত।সরেজমিন বার্তা কি তাহলে এই নারীর সত্যিকার পরিচয় নিয়েছেন? নাকি কাগজপত্রের বৈধতা না নিয়েই কোন অদৃশ্য শক্তিবলে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয় সরেজমিন এর মত সুনামধন্য সংবাদমাধ্যমে? তাহলে কি তার অপরাধকে আড়াল করতে সাংবাদিকতার পরিচয় বহন করে চলার দায় সরেজমিন পত্রিকা নিবে???

👁️ 168 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *