কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নির্বাক শিশু সোহা মনির শরীরে সৎ মায়ের নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

.এস.এম হামিদ হাসান, (কিশোরগঞ্জ) :  সৎ মায়ের নির্যাতন কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা তিন বছরের শিশু সোহা মনির নির্বাক ও মলিন মুখের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়। মা হারা এই অসহায় শিশুটির ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে তার সৎ মা।


বিজ্ঞাপন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ঘটেছে এমনি এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। তিন বছরের সোহা মনি সৎ মায়ের অমানুষিক ও পাষবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে ভর্তি হয়ে শুয়ে আছে হাসপাতালের বেডে।

সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিওতে দেখা যায় সৎ মায়ের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে কাতরাচ্ছে সাড়ে তিন বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশু।


বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাইরে যখন মুষলধারে বৃষ্টি আর আকাশে বজ্রপাতের শব্দ হচ্ছে, আর ঠিক সেই সময় সৎ মায়ের অমানুষিক প্রহারের শিকার শিশুটি চিৎকার করে কাঁদছিল।


বিজ্ঞাপন

গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে এমন পৈশাচিক ও নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চটান এলাকায়। বর্তমানে ঘটনাটি এলাকা জানাজানি হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শিশুটির গায়ে সৎমায়ের এই প্রহারের আঘাতের চিহ্ন দেখে যে কেউ শিউরে উঠছে। তবে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হ‌ওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত সৎ মা মরিয়ম আত্মগোপনে রয়েছেন।

সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার শিশু সোহা মনি উত্তর লোহাজুরী ইউনিয়নের চটান এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। বিএনপির স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে শিশুটিকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিশুটির বাবা সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর এই কর্মকাণ্ডে আমি অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছি। এবিষয়ে আমি স্ত্রীর নামে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।

নির্মম এই ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, আমরা এমন নির্মম ঘটনার তীব্র নিন্দা ও অভিযুক্ত মহিলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটির আপন মা প্রায় আট মাস আগে দুই মেয়ে সন্তান রেখে সংসার ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। পরে শিশুটির বাবা সাইফুল ইসলাম মরিয়ম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন । বড় মেয়ে নানুর বাড়িতে থাকলেও ছোট মেয়ে সোহা মনি বাবার সঙ্গেই থাকত সৎ মায়ের সংসারে।

গত মঙ্গলবার রাতে শিশুটির পিতা বৃষ্টি হ‌ওয়ার সুবাদে বাজার থেকে বাড়িতে দেরি করে ফেরেন। এই সুযোগে শিশুটির ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালায় তার সৎ মা মরিয়ম। নির্যাতনে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে লালচে হয়ে ফুলে ওঠে।

শিশুটির পিতা সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সেদিন রাতে প্রচন্ড বৃষ্টি থাকায় বাজার থেকে বাড়ি ফিরতে আমার দেরি হয়। বৃষ্টি থামার পর বাড়িতে ফিরে দেখি শিশুটি অঝোরে কাঁদছে। পরে শরীরে মারধরের দাগ দেখতে পাই।

বিষয়টি নিয়ে আমি ক্ষিপ্ত হলে পরে রাতে স্ত্রী মরিয়ম বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন- আমার দ্বিতীয় স্ত্রী সম্ভবত আমার এই নিষ্পাপ মেয়েকে বোঝা মনে করত। তিনি বলেন, আমার এই শিশুটির প্রতি অন্যায় আচরণের জন্য দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আর কোনো সৎ মা যেন শিশুদের ওপর এমন অমানুষিক অত্যাচার করতে না পারে সেদিকে সকল বাবাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করার ফলে সে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে। এটি একটি নিন্দনীয় বর্বর কাজ। সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কখনো নিষ্পাপ শিশুদের ওপর এমন বর্বরোচিত আঘাত করতে পারে না।

এবিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় শিশুটির পিতা সাইফুল ইসলাম একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। শীঘ্রই মামলা রুজু করা হবে। তিনি আরো বলেন, গত রাতে বেশ কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালিয়েও অভিযুক্ত মহিলাটিকে পাওয়া যায়নি। তাকে আটকের চেষ্টা চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

👁️ 206 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *