
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : পবিত্র ঈদ-উল-আযহা যথাযোগ্য মর্যাদা, আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক ও বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ করা থেকে শুরু করে কোরবানির পশুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলাজুড়ে নিবিড় মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। মহাসড়কের যানজটপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোকে বিশেষ মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
একই সাথে বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের কাছ থেকে যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়, সেজন্য নিয়মিত পরিদর্শন ও অভিযান চালানো হচ্ছে। সার্বিক যাত্রীসেবার মান সমুন্নত রাখতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ মাঠে তৎপর রয়েছেন।

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জ জেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিয়মিত বিভিন্ন হাট পরিদর্শন করছেন।

কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে কোনো অসাধু চক্র যাতে জাল নোট ছড়িয়ে দিতে না পারে, সেজন্য প্রতিটি হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া হাটগুলোতে সরকার নির্ধারিত টোল বা হাসিল আদায়ের বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত হাসিল আদায় বা ক্রেতা-বিক্রেতারা হয়রানির শিকার না হন।
জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোপালগঞ্জবাসীর ঈদ উদযাপন যেন আনন্দময় এবং নিরাপদ হয়, সেজন্য প্রশাসন সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো অনিয়ম রুখতে ঈদের দিন পর্যন্ত এই তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জেলা প্রশাসনের এসব প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে। একটি সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন গোপালগঞ্জবাসী।
