কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের শতকোটি টাকার টেন্ডার ঘিরে বিতর্ক : ‘যোগ্য দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার’ অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে শেরেবাংলা নগর-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী

গণপূর্ত অধিদপ্তরের শেরেবাংলা নগর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম।


বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা : বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) প্রিভেনশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, বৈদ্যুতিক, সাউন্ড সিস্টেম ও অ্যাকোস্টিক কাজের প্রায় ১৪ কোটি টাকার একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। টেন্ডার মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছে অংশগ্রহণকারী একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগের তীর উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের শেরেবাংলা নগর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, বৈধ ও যোগ্য দরদাতাদের অযোগ্য ঘোষণা করে পূর্বনির্ধারিত একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, “Interior decoration works of the multipurpose hall and lobby, conference hall and lobby, reception lounge, ground floor and other floors; internal electrical works; sound system and acoustic works of the multipurpose hall; along with other ancillary works of Bangladesh Police Counter Terrorism and Transnational Crime Prevention Center construction project” শীর্ষক কাজের টেন্ডার আইডি ১২৬৭০৮৪-এর দরপত্র গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে খোলা হয়।


বিজ্ঞাপন

টেন্ডার ওপেনিং রিপোর্টে দেখা যায়, সাতটি প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এর মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল M/S Confidence Trade International, যার কোটেশন ছিল ১৩ কোটি ৬৯ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৮ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল Hossain Construction (Pvt.) Ltd. এবং তৃতীয় অবস্থানে ছিল Chowdhury & Hai (JV)।

তবে তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা Chowdhury & Hai (JV)-এর লিড পার্টনার হাছিনা আক্তার চৌধুরী প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদনে দাবি করেছেন, টেন্ডার মূল্যায়নের সময় যোগ্য দরদাতাদের অযোগ্য করার জন্য ‘অসৎ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদ্ধতি’ অনুসরণ করা হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সাতটি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে তাদের প্রতিষ্ঠান তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ পড়েছে এবং নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান সুবিধা পেয়েছে। তিনি পুরো টেন্ডার পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মহলে আরও অভিযোগ রয়েছে, বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে টেন্ডারটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরেও নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুলকে ঘিরে নানা আলোচনা রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থান করে তিনি ব্যাপক প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। এমনকি সিনিয়র কর্মকর্তাদেরও ছাড়িয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে যোগাযোগ স্থাপনেরও চেষ্টা করছেন তিনি। যদিও এসব অভিযোগের স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নথি প্রকাশ্যে আসেনি।

টেন্ডার সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রকল্পটির আর্থিক মূল্য ও গুরুত্ব বিবেচনায় মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভাবমূর্তির জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ফলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং টেন্ডার মূল্যায়ন পুনঃপর্যালোচনার দাবি জোরালো হচ্ছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন প্রধান প্রকৌশলী অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেন, সেটিই দেখার বিষয়।

👁️ 92 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *