
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি (বিসিডিএস) কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও (ট্রেড অর্গানাইজেশন) শাখার মহাপরিচালক একজন উপ-সচিব মর্যাদার কর্মকর্তাকে চার মাসের জন্য প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, প্রশাসকের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা এবং নির্বাচিত নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে মেয়াদ শেষে সরে যাওয়া।
তবে অভিযোগ উঠেছে, গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় ২০ দিন অতিবাহিত হলেও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে এখনো কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখার পরিবর্তে একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের পছন্দের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।
তাদের দাবি, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি বর্তমানে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে বিসিডিএসের আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড ও সংগঠনের ক্ষতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাদের কাছে নথিপত্র রয়েছে।

অভিযোগকারীদের তালিকায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে—
মনির হোসেন মনা : অভিযোগ রয়েছে, মনির হোসেন মনা সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি কোনো ঔষধ ব্যবসায়ী হিসেবে নয়, বরং এশিয়াটিক ফার্মাসিউটিক্যালসের মালিক হিসেবে পরিচিত।
তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীরা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ী মহলে অনুসন্ধানের কথা বলেছেন।
আনোয়ার হোসেন মিরধা বেলু ও হেলেনা ইয়াসমিন :
অভিযোগকারীদের দাবি, আনোয়ার হোসেন মিরধা বেলু সাবেক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১৬ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলার ২ নম্বর শেখরনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
তার স্ত্রী হেলেনা ইয়াসমিনকে কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
অভিযোগকারীরা তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও বিসিডিএসের নির্বাচন ঘিরে ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
কবির উদ্দিন বাবলু : অভিযোগ রয়েছে, কবির উদ্দিন বাবলু খুলনা জেলার সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, তার রাজনৈতিক পরিচয় ও বিসিডিএসের কার্যক্রমে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
কাজী রফিকুল ইসলাম : অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজী রফিকুল ইসলাম মাগুরা জেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধ সংহতি পরিষদ নামে একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার রাজনৈতিক পরিচয় ও বিসিডিএসের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
সদস্যদের দাবি: দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা
বিসিডিএসের সাধারণ সদস্যদের একটি অংশের দাবি, প্রশাসকের উচিত দ্রুত নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ঘোষণা করা, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচন কমিশন বা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে বিসিডিএসকে একটি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের হাতে তুলে দিতে হলে প্রশাসকের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে প্রশাসকের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বক্তব্যও নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।
(প্রতিবেদনটি উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ ও যাচাই প্রক্রিয়া সাংবাদিকতার অপরিহার্য অংশ।)
