
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ৩১তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম মোল্যাকে (দোয়েল) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অফিসে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে—এমন তথ্য ঘিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক আলোচনা ও নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সরকার তাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অফিসে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, পররাষ্ট্র ক্যাডারে কর্মরত সাবেক ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম মোল্যা অন্যতম পরিচিত মুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থীর বাড়ি গোপালগঞ্জে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং গোপালগঞ্জের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পররাষ্ট্র ক্যাডারে নিয়োগ পান।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদানের পর গোপালগঞ্জের প্রভাবের কারণে মন্ত্রণালয়ে তিনি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। এমনকি তার কক্ষে নিয়মিত ছাত্রলীগ নেতাদের আড্ডা বসত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ভেতরে সমালোচনা থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পেতেন না বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি।

সূত্রগুলো আরও জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং পান এবং সেখানে প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
এদিকে, বিশ্বস্ত সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অফিসে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সম্ভাব্য নিয়োগের খবর প্রকাশের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অংশের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি পোস্টিং পাওয়া একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাঠানো হলে তা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
তবে রফিকুল ইসলাম মোল্যা বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
