
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সুরক্ষা এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সাহসিকতা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা নড়াইলের কৃতি সন্তান সৈয়দ আব্দুর রউফ (ট্যাজ), পিবিজিএম, বিসিজিএম, পিসিজিএম, বিএন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার থেকে কমান্ডার (গ্রেড-৪) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

তাঁর এই পদোন্নতিতে আনন্দ ও গর্বে উচ্ছ্বসিত নড়াইলবাসী, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী। দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ, পেশাগত নিষ্ঠা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে একাধিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।
সৈয়দ আব্দুর রউফ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে দায়িত্ব পালনের সময় দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলে সেবামূলক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন।

দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, সাহসিকতা, দূরদর্শিতা ও দেশপ্রেম তাঁর কর্মজীবনকে করেছে স্বতন্ত্র। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিও এসেছে বারবার।
২০১৫ সালে রাষ্ট্রপতি পদক অর্জন করেন তিনি। এর পরের বছর ২০১৬ সালে অর্জন করেন সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক। দীর্ঘ কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রীয় পদক অর্জন করেন এই গর্বিত কর্মকর্তা।

একজন সামরিক কর্মকর্তার কর্মজীবনে এমন ধারাবাহিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে মর্যাদাপূর্ণ অর্জন। তাঁর পদোন্নতি সেই অর্জনের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নড়াইলের জন্য গর্বের অধ্যায়
সৈয়দ আব্দুর রউফের এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, তাঁর জন্মভূমি নড়াইলের জন্যও গর্বের বিষয়। দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে তিনি নড়াইলের সন্তানদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।
তাঁর এই দীর্ঘ পথচলায় পরিবারের সদস্য, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণার কথা বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁদের ভালোবাসা, দোয়া ও নিরলস সহযোগিতাকে তিনি নিজের সাফল্যের অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখেন।
নতুন দায়িত্বে নতুন প্রত্যাশা : লেফটেন্যান্ট কমান্ডার থেকে কমান্ডার পদে পদোন্নতি সৈয়দ আব্দুর রউফের কর্মজীবনে নতুন দায়িত্বের দ্বার খুলে দিয়েছে। তাঁর মেধা, দক্ষতা, সাহসিকতা, দূরদর্শিতা ও দেশপ্রেম ভবিষ্যতেও দেশের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা তাঁর পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
তাঁর পদোন্নতিতে অভিনন্দন জানিয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। একই সঙ্গে তাঁরা নড়াইলের এই কৃতি সন্তানের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি ও কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেছেন।
দেশসেবার দীর্ঘ পথচলায় অর্জিত রাষ্ট্রীয় সম্মাননা আর নতুন পদোন্নতি—সব মিলিয়ে সৈয়দ আব্দুর রউফের এই অর্জন নড়াইলের জন্য নিঃসন্দেহে এক গৌরবের অধ্যায়।
তবে নিজের সাফল্যের মুহূর্তেও পরিবারকে ভুলে যাননি তিনি। তাঁর প্রয়াত বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যদের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
দেশের জন্য দায়িত্ব পালন, কর্মক্ষেত্রে সাহসিকতার স্বীকৃতি এবং ধারাবাহিক অর্জনের মধ্য দিয়ে সৈয়দ আব্দুর রউফের কমান্ডার পদে পদোন্নতি যেন নড়াইলের মাটিতে জন্ম নেওয়া আরেক সূর্যসন্তানের গৌরবগাথায় নতুন একটি অধ্যায় যোগ করল।
