
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. আহম্মদুল্লাহ ও আরেক কর্মকর্তা আশিক শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের কেন্দ্রীয় অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) পোর্টালে জমা পড়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সম্প্রতি দুই সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগের সত্যতা, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা এবং অভিযোগের পেছনে থাকা তথ্য-উপাত্ত যাচাই করতেই কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের তির মূলত বিপিসির উপ-ব্যবস্থাপক মো. আহম্মদুল্লাহ এবং উপ-ব্যবস্থাপক (বোর্ড) আশিক শাহরিয়ারের দিকে। দুজনের বাড়িই ঝালকাঠি জেলা সদরের কাছাকাছি দুই গ্রামে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে মো. আহম্মদুল্লাহ বর্তমানে ওএসডি হিসেবে রয়েছেন এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসে সংযুক্ত আছেন। এর আগে তিনি বিপিসি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জিআরএসে জমা পড়া অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘটনায় বিপিসির অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারি দপ্তরে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার আওতায় কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি যাচাই-বাছাই করে তদন্তে নেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, জিআরএসে আসা অভিযোগের ফাইল তারা হাতে পেয়েছেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথভাবে তদন্ত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের প্রকৃতি ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায় নির্ধারণের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে আসতে পারে।
বিপিসির মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি। বিশেষ করে জিআরএসে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন হওয়ায় এখন তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মো. আহম্মদুল্লাহ ও আশিক শাহরিয়ারকে অভিযুক্ত হিসেবে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা যাবে না। তদন্তে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসার পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
এখন দেখার বিষয়, দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিপিসি কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
