
নিজস্ব প্রতিবেদক : উত্তর সিটির আমিনবাজার ল্যান্ডফিল প্রতিদিন ৩৫০০-৪০০০ টন বর্জ্য ম্যানেজমেন্ট করে। আর দক্ষিন সিটির মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল করে প্রায় ৩০০০ টন।

শুধুমাত্র বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উত্তর সিটির খরচ হয়েছিল ৪৩৬ কোটি টাকা। আর দক্ষিন সিটির ৫৭.২ কোটি।এখানে এরিয়া সাইজ ও গুলশান বনানী উত্তরার মত এলাকার বর্জ্য সংগ্রহ পদ্ধতি ও দুরত্বের কারনে উত্তরের খরচের একটা পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
২০২৬-২৭ এ উত্তর সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাজেট ৫১১.৪১ কোটি টাকা আর দক্ষিনের ৩২৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঢাকার আগামী এক বছরের বর্জ্য ব্যস্থাপনার খরচ হবে ৮৩৮ কোটি টাকা। যেখানে রিটার্ন প্রায় নাই বললেই চলে।

Waste Concern নামের একটি বেসরকারি সংস্থা মাতুয়াইলে প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ২০ টন বর্জ্য নিয়ে কম্পোস্টিং বা জৈব সার তৈরির একটি পাইলট প্রজেক্ট চালায়। আর কোন রিটার্নই আসে না এ থেকে।

সরকার এই বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের জন্যে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলকে চীনের বিখ্যাত সিএমইসি (CMEC) দায়িত্ব দিয়েছে।বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে এনার্জি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবেশ এবং ভারী শিল্প অবকাঠামো নির্মাণে তাদের অভিজ্ঞতা সেই ১৯৭৮ সাল থেকে।
আমিনবাজার থেকে তারা ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে প্রতিদিন ৩০০০ টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। কিন্তু প্রশ্ন হল এই বিদ্যুৎ তারা প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা হারে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে, এত দামে বিদ্যুৎ কিনে কি লাভ?
যেখানে দেশে গড় বিদ্যুৎ খরচ ১২ টাকা সেখানে ডাবল খরচ দিয়ে এই বিদ্যুৎ কিনে খরচ বাড়ানো ছাড়া আর কি কোন লাভ আছে?এই কেন্দ্র যদি তার সক্ষমতার ৮০%-ও নিশ্চিত করতে পারে তবে বছরে মোট ২৯.৮ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ প্রডাকশন করতে পারবে।
তাহলে জাতীয় খরচ ১২ টাকা থেকে প্রতি ইউনিটে ১৩ টাকা বেশি দিয়ে কিনলে বছরে অতিরিক্ত খরচ আসবে ৪০০ কোটি টাকা প্রায়। আর আমিন বাজারের এই ল্যান্ডফিলের চলতি বছরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খরচ কত? ৫১১ কোটি টাকা। গত বছর থেকে ১৭% বেশি।
এই হার ধরলে ২০২৮-২৯ সালে খরচ দাঁড়াবে ৭০২ কোটি টাকা।প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ২০২৮-২৯ সালে বিদ্যুৎ কেনার অতিরিক্ত যে খরচ যদি বর্তমান সিস্টেমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু থাকে তবে তা থেকে ৩০২ কোটি টাকা বেশি খরচ হবে।
আর এর সাথে বোনাস হিসাবে প্রতিদিন ৩০০-৭৫০ টন পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব জৈব সার বা বাই-প্রোডাক্ট পাওয়ার সম্ভাবনা তো আছেই।
দৈনিক গড়ে ৫০০ টন পাওয়া গেলেও প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে দৈনিক ৭৫ লাখ আর বছরে ২৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার সার পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
তাহলে লাভ হল নাকি লস?
ও হ্যাঁ, শুধু আমিনবাজার না। সরকার মাতুয়াইলকেও এরকম একই ধরনের প্রকল্পে দিয়ে দিচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়া-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বিএন্ডএফ কোম্পানি লিমিটেড’ মাতুয়াইলে কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে না। তারা পুরো ল্যান্ডফিলকে একটি আধুনিক Zero-Waste মডেল বানাবে, যা থেকে জৈব সার, বায়োগ্যাস, Refuse-Derived Fuel, সিমেন্টের কাঁচামাল এবং ইকো-ব্রিকস তৈরি করা হবে।
আর মাতুয়াইল চুক্তিটা আরও ইন্টারেস্টিং। B&F উৎপাদিত সার, বায়োগ্যাস বা বিদ্যুৎ বিক্রি করে যে আয় করবে, তার সরাসরি ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে (DSCC) দেবে। বর্জ্য সংগ্রহ থেকে সকল ম্যানেজমেন্ট তাদের। এবং ১৫ বছর পর তারা পুরো প্ল্যান্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে বিনামূল্যে হস্তান্তর করে দিবে।
