
মোঃ রিমন আহমেমদ (নওগাঁ) : নওগাঁ সদর থানা পুলিশের অভিযানে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কথিত হানিট্র্যাপ চক্রের এক নারী সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় এক স্কুলশিক্ষকের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া একটি স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার এলাকার স্কুলশিক্ষক বাপ্পির সঙ্গে পূর্বপরিচিত একই গ্রামের বাসিন্দা মোছা. চামেলী আক্তার মিলির প্রয়োজনের সময় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হতো।
গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিলি তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে ওই শিক্ষককে ফোন করে জরুরি বিষয়ে কথা বলার জন্য নওগাঁ শহরের তার বাসায় আসতে বলেন। জরুরি বিষয় মনে করে ওই শিক্ষক সেখানে যান।

পুলিশের অভিযোগ, বাসায় যাওয়ার পর চামেলী আক্তার মিলিসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজন ব্যক্তি ওই শিক্ষককে আটকে ভয়ভীতি দেখান এবং মারধরের হুমকি দেন। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক লিখে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী শিক্ষক বাপ্পি বলেন, চামেলী আক্তারের ফোন পেয়ে তিনি সরল বিশ্বাসে তার বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও কাগজপত্র নেওয়া হবে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কথিত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি পূর্বপাড়ার মোছা. চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার মো. রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর পূর্বপাড়ার মো. সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফুটানিগঞ্জ এলাকার মো. নাঈম হোসেন (২৫)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ওই শিক্ষকের স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশের ধারণা, চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তিকে নানা ধরনের প্রলোভনে ফেলে পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করত। কখনো ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলের ভয় দেখিয়েও টাকা আদায় করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
