
আঃ হামিদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল) : কিস্তির টাকা পরিশোধের পরও চেক ডিজঅনার মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে টাঙ্গাইলের মধুপুরে মানববন্ধন করেছেন মাহিন্দ্রা থ্রি-হুইলার মালিক ও শ্রমিকেরা।

তাঁদের দাবি, কিস্তির চুক্তি, পরিশোধের রসিদ ও ব্যাংক লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো আইনগতভাবে পর্যালোচনা করে হয়রানি বন্ধ ও বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের আনারস চত্বরে মাহিন্দ্রা (পিয়াজু) সিএনজি মালিক-শ্রমিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টার কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক মাহিন্দ্রা মালিকসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, মধুপুরের ইয়ামাহা সেলস সেন্টার থেকে নগদ ও কিস্তিতে সিএনজি অটোরিকশা এবং মাহিন্দ্রা থ্রি-হুইলার বিক্রি করা হয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক মানুষ কিস্তিতে এসব যানবাহন কিনে তা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে কিস্তির টাকা পরিশোধ ও হিসাব-নিকাশকে কেন্দ্র করে মাহিন্দ্রা (পিয়াজু) বিক্রেতা আইয়ুব আলীর সঙ্গে কয়েকজন ক্রেতার বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা জানান।

ভুক্তভোগী মালিকদের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী তাঁরা নিয়মিত কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও তাঁদের দেওয়া চেকের বিপরীতে ডিজঅনার মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি তাঁরা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন। এতে যানবাহন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে মকবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও সেলিম বলেন, ‘আমরা চুক্তি অনুযায়ী কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমরা হয়রানি চাই না; কাগজপত্র ও হিসাব যাচাই করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চাই।’
ভুক্তভোগীদের দাবি, সেলস সেন্টারের সঙ্গে করা কিস্তির চুক্তিপত্র, পরিশোধের রসিদ, ব্যাংক লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ করা হোক। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী যেসব মামলা অযৌক্তিকভাবে করা হয়েছে, সেগুলো আইনগতভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
মানববন্ধনে মাহিন্দ্রা সিএনজি মালিক-শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সুলতান ও সাধারণ সম্পাদক চান মিয়া বক্তব্য দেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগী মকবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, সেলিমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, কিস্তি পরিশোধ নিয়ে কোনো পাওনা বা বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও লেনদেনের হিসাব যাচাইয়ের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা সম্ভব। তাই মামলা ও হয়রানির পরিবর্তে নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ এবং আইনানুগভাবে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
