গোদনাইল ডিপোতে তেল চুরি-পাচারের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রণে মাহবুবের ‘সিন্ডিকেট’  ! শত কোটি টাকার তেল বাণিজ্য, নদীতে লাইটার জাহাজে মজুদের অভিযোগ; সম্পদের খতিয়ান নিয়ে প্রশ্ন ?  জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি  

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় মেঘনা পেট্রোলিয়াম পিএলসির ডিপো ঘিরে তেল চুরি, পাচার, অবৈধ মজুদ, অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি এবং ঘুষ-বাণিজ্যের একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডিপোর ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, সরকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও কথিত তেল চোরাচালান ও অবৈধ বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়ে গেছে।

স্থানীয় শ্রমিক নেতা, ট্যাংকলরি মালিক ও পেট্রোলপাম্প মালিকদের অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ডিপোতে প্রভাব বিস্তার করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিজেকে বিএনপি-ঘরানার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।


বিজ্ঞাপন

এমনকি বিভিন্ন মহলে তিনি নিজেকে বগুড়ার অধিবাসী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার এলাকার লোক হিসেবে পরিচয় দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাকে চেনেন ও জানেন—এমন কথাও প্রচার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের দাবি ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক জবাবদিহি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন।

জ্বালানি সংকটে ‘মাফিয়া’ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ : চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের সংকটের সময় মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।

স্থানীয়দের দাবি, তার প্রভাবের কারণে গোদনাইল ও ফতুল্লা ডিপো এলাকায় বেআইনি তেল মজুদ, তেল চোরাকারবারি এবং অবৈধভাবে বেশি দামে তেল বিক্রির একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে।

স্থানীয় শ্রমিক নেতা ও পেট্রোলপাম্প মালিকদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান, জ্বালানি সংকটকে কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল মজুদ করে পরে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

তাদের দাবি, শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, মেঘনা ও পদ্মা নদীতে প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি লাইটার জাহাজে তেল মজুদ করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। পরে সংকটের সুযোগ নিয়ে এসব তেল বেশি দামে বিক্রির একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ। তবে এত বিপুলসংখ্যক লাইটার জাহাজে তেল মজুদের দাবির স্বাধীন ও নথিভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।

ট্যাংকলরিতে তেল কম দেওয়ার অভিযোগ : পেট্রোলপাম্প মালিক ও ট্যাংকলরি সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, ডিপো থেকে বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পে তেল সরবরাহের সময় প্রতিটি ট্যাংকলরিতে ১০০ থেকে ১৫০ লিটার পর্যন্ত তেল কম দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মকাণ্ডে ডিপোর কয়েকজন কর্মচারী, মিটার রিডার, মিটারম্যান, সুপারভাইজার ও আনসার সদস্যদের একটি অংশ জড়িত। অভিযোগকারীদের দাবি, এই কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ট্যাংকলরি মালিক ও পেট্রোলপাম্প মালিকদের অভিযোগ, ঘুষ-বাণিজ্য এবং তেল পাচারের কারণে শুধু মেঘনা পেট্রোলিয়াম নয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন—বিপিসির ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর: চালান ছাড়াই ৩ হাজার লিটার ডিজেল পাচারের অভিযোগ : মাহবুবুর রহমানকে ঘিরে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর।

অভিযোগ অনুযায়ী, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের গোদনাইল ডিপো থেকে রাব্বি ট্রেডার্সের নামে কোনো চালান ছাড়াই ১৫টি ড্রামে মোট ৩ হাজার লিটার ডিজেল পাচারের চেষ্টা করা হয়। ঘটনা জানাজানি হলে মেঘনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তের পর ডিপোর মিটারম্যান সবুজকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ডিপো ইনচার্জ মাহবুবুর রহমানকে সতর্ক করা হয় এবং লোকমানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

একই সঙ্গে ছয় মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির তেল উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—ডিপোর মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনা থেকে চালান ছাড়া এত বিপুল পরিমাণ তেল কীভাবে বাইরে গেল ? শুধু একজন মিটারম্যানকে দায়ী করলেই কি ডিপোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহি শেষ হয়ে যায় ?

তদন্ত কমিটি, দায় কার ?  ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর, অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয় কোম্পানির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. শরিফুল ইসলামকে (ডিপো অপারেশন্স)। সদস্য ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজার (অডিট) মো. গোলাম মহিউদ্দিন এবং ঢাকা রিজিওনাল অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার (সেলস) মো. আনোয়ার হোসেন।

কমিটিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন :  ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। জানা যায়, কমিটি ৩০ ডিসেম্বর ডিপোতে গিয়ে তদন্ত করে। তবে অভিযোগ উঠেছে, তদন্তে মূল দায়ের পরিবর্তে মিটারম্যান সবুজের ওপর দায় চাপানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। তদন্তের ক্ষেত্রে গেট দিয়ে চালান ছাড়া গাড়ি কীভাবে বের হলো—এই মৌলিক প্রশ্নের যথাযথ উত্তর পাওয়া গেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এর আগেও অতিরিক্ত ২,২৫০ লিটার ডিজেল লোডের অভিযোগ : ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট গোদনাইল ডিপোতে আরও একটি গুরুতর ঘটনার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাদশা টেক্সটাইলের নামে ৯ হাজার লিটার ডিজেলের ইনভয়েস করা হলেও ঢাকা মেট্রো-ঢ-১১-০০১৯ নম্বরের ট্যাংকলরিতে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫০ লিটার ডিজেলসহ মোট ১১ হাজার ২৫০ লিটার তেল লোড করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে, মিটারম্যান সবুজ ট্যাংকলরি চালকের যোগসাজশে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫০ লিটার ডিজেল অবৈধভাবে বিক্রি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে গোদনাইল এসও রোডের স্থানীয় বাসিন্দা মো. রনি ও তার সহযোগীরা গাড়িটি আটক করেন এবং ডিপো ইনচার্জ মাহবুবুর রহমানকে বিষয়টি জানান।

এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা দেন-দরবার চলে বলে অভিযোগ। পরে ডিপো ইনচার্জ ও রনির সহযোগীদের ‘ম্যানেজ’ করে গাড়িটি ডিপো থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মিটারম্যান সবুজ ও আজিজকে মিটার থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। যদিও আজিজ এ ঘটনায় কিছু জানতেন না বলে দাবি রয়েছে।

৩০ ডিসেম্বর ডিপোর সামনে বিক্ষোভ :  অভিযোগের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মাহবুবুর রহমানের অপসারণ দাবি করে ডিপোর সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন ট্যাংকলরি চালক ও শ্রমিকরা। তারা তার অপসারণের দাবি জানান।

কিন্তু বিক্ষোভ, তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরও তিনি ডিপোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন—এমন অভিযোগই এখন নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পাম্পে গোপনে তেল সরবরাহের অভিযোগ  :  অভিযোগ রয়েছে, মাহবুবুর রহমানের কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাজেদা প্লটিং, শীতলক্ষ্যা প্লটিং ও বুড়িগঙ্গা প্লটিংসহ একাধিক পাম্পে গোপনে অবৈধভাবে তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মেঘনা পেট্রোলিয়াম, বিপিসি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত, ডিপোর স্টক রেজিস্টার, চালান, মিটার রিডিং, ট্যাংকলরি লোডিং রেকর্ড, গেট পাস এবং সংশ্লিষ্ট পাম্পগুলোর বিক্রয় তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাকরির আড়ালে সম্পদের পাহাড় ?  মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে শুধু তেল চুরি-পাচার নয়, অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অনুসন্ধানে তার নিজের, স্ত্রী ও তিন কন্যার নামে বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বগুড়া উপশহর: পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন ‘হাবিবা টাওয়ার’ নামে আটতলা একটি অত্যাধুনিক ভবন। ভবনটিতে মোট ২৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে, ভবনটির বর্তমান বাজারমূল্য ন্যূনতম ২০ কোটি টাকা। মাটির ডালি ভাংরি পট্টি: একই শহরে তিনতলা একটি বাড়ি, যার বাজারমূল্য ন্যূনতম ১ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। জ্বলেশ্বরী ছাদিয়া গার্ডেন: স্থানীয়ভাবে ‘হাই সোসাইটি’র ভবন হিসেবে পরিচিত এই স্থানে মাহবুবুর রহমানের মালিকানাধীন দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ। এসবের বাজারমূল্য ন্যূনতম ২ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। সাতমাথা আলতাব আলী মার্কেট: এখানে বৃহৎ পরিসরের একটি পাইকারি ওষুধের দোকান রয়েছে, যেটির মালিক হিসেবেও মাহবুবুর রহমানের নাম উঠে এসেছে।

মাটির ডালি ব্রিজের নিচে: ন্যূনতম ২ কোটি টাকা মূল্যের জমি রয়েছে বলে অভিযোগ। বাইপাস সড়ক সংলগ্ন এলাকা: প্রায় ২০ বিঘা জমির মালিকানার কথা বলা হয়েছে, যার মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। উপশহরের টুম্পা টাওয়ার: এখানে আরও দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ, যার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। ঢাকার কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া: দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব দৃশ্যমান সম্পদের বাইরেও আরও বিপুল সম্পদ রয়েছে। তবে সব সম্পত্তি মাহবুবুর রহমানের একক নামে নয়; তার স্ত্রী ও তিন কন্যার নামেও বিভিন্ন সম্পদ কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ভূমি রেকর্ড, দলিল, কর নথি, ব্যাংক হিসাব, আয়কর বিবরণী এবং সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাবেই কি তদন্ত থেমে যায় ? সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি তাদের।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তেল চুরি, তেল পাচার এবং তেলে ভেজালের অভিযোগ বারবার সামনে এলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তার অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বদলি বা চাকরিচ্যুতির মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মূল দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
তদন্ত চায় ভুক্তভোগীরা

মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ট্যাংকলরি মালিক, শ্রমিক এবং পেট্রোলপাম্প সংশ্লিষ্টরা।

তাদের দাবি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও বিপিসির অভ্যন্তরীণ তদন্তের পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে মাহবুবুর রহমান, তার স্ত্রী ও তিন কন্যার নামে থাকা সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তদন্ত হলে তেল সরবরাহের নথি, ডিপোর স্টক হিসাব, ট্যাংকলরি লোডিং রেকর্ড, গেট পাস, পাম্পভিত্তিক সরবরাহ, ব্যাংক লেনদেন এবং সম্পত্তির দলিল যাচাই করলেই অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ : মেঘনা পেট্রোলিয়াম পিএলসি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের একটি ডিপোতে যদি দীর্ঘদিন ধরে তেল চুরি, পাচার, অবৈধ মজুদ কিংবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতি নয়—দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও সরকারের ভাবমূর্তির জন্যও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

তাই খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীরা।

তাদের দাবি, মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের ঊর্ধ্বে রেখে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অবৈধ সম্পদ থাকলে তা অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৩ আগস্টের অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫০ লিটার ডিজেল লোডের ঘটনা, ২৩ ডিসেম্বরের চালানবিহীন ৩ হাজার লিটার ডিজেল পাচারের অভিযোগ, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, ডিপোর গেট পাস ও স্টক রেজিস্টার এবং ৩০ ডিসেম্বরের বিক্ষোভ—সবকিছু একসঙ্গে পর্যালোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ প্রশ্ন একটাই—ডিপোর মিটারম্যান বা কর্মচারী যদি অনিয়ম করে থাকেন, তাহলে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা কীভাবে দায়মুক্ত থাকেন ? এই প্রশ্নের উত্তরই এখন চাইছেন গোদনাইল ডিপোর শ্রমিক, ট্যাংকলরি মালিক, পেট্রোলপাম্প মালিক এবং সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা।

👁️ 71 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *