
নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের নামে গত দেড় দশকে সরকারি ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা পেয়েছে ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লিডস করপোরেশন লিমিটেড—এমন তথ্য ও দাবি ঘিরে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক উত্থান, মালিকানা, রাজনৈতিক যোগাযোগ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় প্রযুক্তি অবকাঠামো ও সফটওয়্যার সেবা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে লিডস। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দেশের ১৩টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকে তাদের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার BankUltimus ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি Finginx নামে নতুন একটি ইউনিভার্সাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম তৈরির কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কিন্তু এত বড় ব্যবসা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং প্রযুক্তিতে অবস্থান তৈরি করা প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, রাজনৈতিক প্রভাব, আর্থিক লেনদেন এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওঠা অভিযোগ এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ব্যাংকের প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার কারণে এসব অভিযোগের পাশাপাশি তথ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

মালিকানায় রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগ : সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, লিডস করপোরেশনের মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের সংশ্লিষ্টতা ছিল। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য পূর্ণাঙ্গ নথি, কোম্পানির মালিকানা রেকর্ড ও আর্থিক লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে বর্তমানে লিডসের মালিকানায় আসা ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির আহমেদকে আওয়ামী লীগ নেতা এইচ বিএম ইকবাল ও মাহবুব উল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির আহমেদ প্রিমিয়ার ব্যাংকে সফটওয়্যার সরবরাহের মাধ্যমে এইচ বিএম ইকবালকে মোটা অঙ্কের কমিশন দেন। পরবর্তীতে ওই প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকেই তিনি হাজার কোটি টাকা ঋণ নেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া, জামানত, ঋণ বিতরণ, পরিশোধের ইতিহাস, সফটওয়্যার ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক লেনদেনের ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যে ব্যাংকগুলো গ্রাহক, সেখানেই ঋণগ্রহীতা—উঠছে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন : সংশ্লিষ্টদের আরও দাবি, বশির আহমেদ যেসব ব্যাংকে প্রযুক্তি সেবা দিচ্ছেন, সেসব ব্যাংক থেকেই নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। ফলে একই ব্যক্তি বা তার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান যখন কোনো ব্যাংকের প্রযুক্তি সেবাদাতা এবং একই সঙ্গে ওই ব্যাংকের বড় ঋণগ্রহীতা—তখন সেখানে স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রযুক্তি সেবার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো অনেকটা নিরুপায় অবস্থায় পড়েছে। তাদের ভাষায়, বশির আহমেদ হয়ে উঠেছেন ব্যাংকগুলোর ‘গলার কাঁটা’—না পারছেন গিলতে, না পারছেন হজম করতে। একই সঙ্গে কমিশনের অর্থ বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে চলে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকঋণ, প্রযুক্তি সরবরাহ, কমিশন এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ—এই চারটি বিষয়কে আলাদা করে নয়, বরং পারস্পরিক সম্পর্কের আলোকে তদন্ত করা প্রয়োজন।
দেড় দশকে ১,২০০ থেকে ১,৮০০ কোটি টাকার কাজ৷ :
খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য ও আর্থিক নথির বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, গত দেড় দশকে লিডস করপোরেশনের সম্পাদিত কাজের মোট মূল্য আনুমানিক ১,২০০ কোটি থেকে ১,৮০০ কোটি টাকা। বিভিন্ন হিসাব ও দাবির মধ্যবর্তী অঙ্ক হিসেবে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার ব্যবসার কথা সামনে এসেছে।
লিডসের নিজস্ব কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার BankUltimus এবং ব্রোকারেজ ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার BlueChip-এর লাইসেন্স, বাস্তবায়ন ও কারিগরি সহায়তা থেকেও প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য আয় করেছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, এত বড় ব্যবসা, বিপুল অঙ্কের কার্যাদেশ এবং নিয়মিত নগদ প্রবাহ থাকার পরও একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি কেন ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েছিল ?
কোটি কোটি টাকার ব্যবসার পরও কর্মীদের বেতন বকেয়া !
২০২৪ সালে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাবেক কর্মীদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, ২০১৮ সাল থেকে লিডসে বেতন পরিশোধ অনিয়মিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কর্মীদের মোট বকেয়া বেতন প্রায় ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায় বলে দাবি করা হয়। সাবেক কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় নিয়মিত বেতন দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিতে পরে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত বেতন আটকে থাকত।
সাবেক কর্মী আরিফুর আমরান চৌধুরী তখন দাবি করেছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁরই ১৭ লাখ টাকার বেশি পাওনা ছিল। এখানেই বড় প্রশ্ন—সরকারি ও ব্যাংকিং খাত থেকে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা পাওয়া একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এমন আর্থিক সংকটের কারণ কী ছিল? ব্যবসার অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে ? প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহ কীভাবে ব্যবস্থাপিত হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে কোম্পানির অডিট রিপোর্ট, ব্যাংক হিসাব, আয়-ব্যয়ের বিবরণী, পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের লেনদেন এবং প্রকল্পভিত্তিক আর্থিক হিসাব পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
আদালতে সম্পদ জব্দ ও BankUltimus নিলামের উদ্যোগ : লিডসের আর্থিক সংকটের পাশাপাশি পুরোনো একটি মালিকানাসংক্রান্ত মামলাও প্রতিষ্ঠানটিকে বড় ধরনের আইনি ঝুঁকির মুখে ফেলে। ২০২৪ সালে ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের একটি আদেশে লিডসের ব্যাংক হিসাব জব্দ, লিডস টাওয়ার নিলামে বিক্রির উদ্যোগ এবং প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ BankUltimus সফটওয়্যার নিলামের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে আদালতের নথিতে উঠে আসে।
আদালতের নথিতে এক পর্যায়ে ৭২,৭৫৫,৫৩৮.৭৮ মার্কিন ডলার পাওনার উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তী হিসাব ও সুদের কারণে অঙ্কে পরিবর্তন আসে এবং ২০২৪ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৮৩.৬৬ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে BankUltimus-এর জন্য ৫ কোটি টাকার একটি প্রস্তাবের কথাও আদালতের নথিতে উঠে আসে।
এই পরিস্থিতি একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে—যে সফটওয়্যার দেশের একাধিক ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত, সেটি যদি কোনো সময় আদালতের নিলাম প্রক্রিয়ার আওতায় আসে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত ধারাবাহিকতা, সফটওয়্যার লাইসেন্স, রক্ষণাবেক্ষণ এবং তথ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার অবস্থা কী ছিল ?
কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ঘিরে নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন : কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার কোনো সাধারণ ব্যবসায়িক অ্যাপ্লিকেশন নয়। একটি ব্যাংকের গ্রাহকের হিসাব, আমানত, ঋণ, লেনদেন, শাখা কার্যক্রমসহ বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল তথ্য ও কার্যক্রম এর সঙ্গে যুক্ত থাকে।
ফলে কোনো প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বা ব্যবস্থাপনাগত সংকট দেখা দিলে তার প্রভাব কেবল ওই কোম্পানির ব্যবসায় সীমাবদ্ধ থাকে না। দক্ষ প্রযুক্তিকর্মীদের বড় অংশ প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গেলে সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা আপডেট, কারিগরি সহায়তা, দুর্যোগ পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
লিডসের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কিছু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করছেন, বর্তমানে লিডসের প্রযুক্তিসেবা গ্রহণকারী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার এবং সংবেদনশীল তথ্য যথেষ্ট নিরাপদ কি না, তা স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন।
তবে রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগকে সরাসরি সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং প্রকৃত ঝুঁকি নির্ধারণে কারিগরি ও স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়োজন স্বাধীন সাইবার অডিট : প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন অপরিহার্য। লিডসের BankUltimus ব্যবহৃত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে অন্তত— স্বাধীন Cyber Security Audit; Source Code Review. Privileged Access Audit. Penetration Testing. Disaster Recovery Assessment. Data Governance Review. সফটওয়্যার আপডেট ও প্যাচ ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা, তৃতীয় পক্ষের কারিগরি প্রবেশাধিকার পর্যালোচনা, করা হয়েছে কি না, তা জনস্বার্থে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পরিবর্তন, আর্থিক সংকট কিংবা আইনি বিরোধের সময় তার প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা ও তথ্যনিরাপত্তা প্রোটোকল কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, সেটিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা দরকার। ২০২৪ সালে মালিকানা বদল, ২০২৬ সালে আইনি বিরোধে নতুন মোড় পরবর্তী সময়ে লিডসের মালিকানায় পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ওয়েস্টার্ন গ্রুপ লিডস করপোরেশনের শতভাগ শেয়ার অধিগ্রহণ করে বলে জানানো হয়।
তবে তখনও BankUltimus-এর মালিকানা ঘিরে আইনি বিরোধ চলছিল। লিডসের দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ Civil Appeal No. 46 of 2025 মামলায় রায় দিয়ে নিম্ন আদালতের সম্পদ জব্দ ও নিলামসংক্রান্ত আদেশ বাতিল করেন। কোম্পানিটির ভাষ্য, এর মাধ্যমে BankUltimus-এর মালিকানা ও মেধাস্বত্ব নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে ।
তদন্তের আওতায় আসতে পারে যে বিষয়গুলো লিডস করপোরেশনকে ঘিরে প্রশ্নের পরিধি এখন শুধু একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সাফল্য বা ব্যর্থতায় সীমাবদ্ধ নেই। সরকারি ও ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল অঙ্কের ব্যবসা পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্পগুলো কীভাবে অনুমোদিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশেষ করে তদন্তে দেখা দরকার— প্রথমত, গত দেড় দশকে লিডসের পাওয়া সরকারি ও ব্যাংকিং খাতের প্রতিটি বড় প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া কতটা প্রতিযোগিতামূলক ছিল। দ্বিতীয়ত, কার্যাদেশের মূল্য এবং সরবরাহকৃত সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি পণ্যের প্রকৃত বাজারমূল্যের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক পার্থক্য ছিল কি না। তৃতীয়ত, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব কাজ করেছে কি না। চতুর্থত, লিডসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ঋণসম্পর্কে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছিল কি না। পঞ্চমত, বিপুল ব্যবসা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট ও কর্মীদের বেতন বকেয়ার প্রকৃত কারণ কী। ষষ্ঠত, BankUltimus-এর মালিকানা, লাইসেন্স, মেধাস্বত্ব এবং রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কী ধরনের আইনি ও ব্যবসায়িক জটিলতা ছিল।
সপ্তমত, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত লিডসের প্রযুক্তি অবকাঠামোর স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন নিয়মিতভাবে হয়েছে কি না।
শেষ কথা – প্রয়োজন নথিভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান : লিডস করপোরেশনকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কোনোটি সত্য, কোনোটি অতিরঞ্জিত এবং কোনোটি ভিত্তিহীন—তা নির্ধারণের একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ হলো নথিভিত্তিক ও স্বাধীন তদন্ত।
সেজন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথি, দরপত্র, কার্যাদেশ, প্রকল্প ব্যয়, সরবরাহকৃত পণ্য ও সফটওয়্যারের মূল্য, কোম্পানির মালিকানা রেকর্ড, ব্যাংক হিসাব, ঋণ অনুমোদন ও পরিশোধের তথ্য, নিরীক্ষা প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্ণাঙ্গ নথি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন একসঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
কারণ প্রশ্নটি কেবল প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা পাওয়া একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নয়। প্রশ্নটি হলো—জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তগুলো কতটা স্বচ্ছ ছিল, রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি কতটুকু, বিপুল ব্যবসার পরও একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট কেন তৈরি হয়েছিল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে—দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং প্রযুক্তি অবকাঠামো আজ কতটা নিরাপদ। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করতে হলে প্রয়োজন আবেগ বা রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; প্রয়োজন নথি, অডিট, ব্যাংকিং তথ্য, আদালতের রেকর্ড এবং স্বাধীন প্রযুক্তিগত তদন্ত।
