
নিজস্ব প্রতিনিধি (শার্শা) : যশোরের শার্শা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সন্তান আবু হুরাইরা সাবিত মিশরের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক ও নিজ এলাকার মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।

আবু হুরাইরা সাবিত যশোর জেলার শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা। সাবিতের পিতা মো. মনির উদ্দিন, পিতা কৃষক হওয়ার পরেও সন্তানের স্বপ্ন পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। ছেলের সব সময় পড়াশোনা করার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা এবং সাপোর্ট দিয়ে থাকেন।
তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরুটা গ্রামের রহিমপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে। সেখান থেকে তিনি ২০২৩ সালে দাখিল (SSC) পরীক্ষা দেন। পরবর্তীতে ঢাকার তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০২৫ সালে আলিম (HSC) পরীক্ষা দেন।

আলিম শেষ করার পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে তিনি বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করেন এবং একাধিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় পাকিস্তানের আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপে তিনি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন। একইভাবে ইন্দোনেশিয়ার একটি উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমেও তিনি প্রাথমিকভাবে সিলেক্ট হয়েছিলেন ।

তবে তাঁর মনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা। দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান। অবশেষে তাঁর সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়—আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করেন তিনি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আবু হুরাইরা সাবিত বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা। আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া, তিনি আমার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে ভবিষ্যতে দেশে ফিরে আসতে চান। নিজের অর্জিত জ্ঞান দেশের মানুষের কল্যাণে এবং দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
আবু হুরাইরা সাবিতের এই যাত্রা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণ নয়; বরং প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থীর অধ্যবসায়, স্বপ্ন ও আল্লাহর ওপর ভরসার একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প।
