সমালোচিত মিয়ানমারের বিশেষ পুলিশ ইউনিট

আন্তর্জাতিক জাতীয়

নিজস্ব প্রতিনিধি : অত্যাচার-নিপীড়ন, হত্যা আর গুমের ঘটনায় বরাবরই সমালোচিত মিয়ানমারের বিশেষ পুলিশ ইউনিট। গেল সপ্তাহের সামরিক অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রকামীদের উপর চড়াও হয়েও বিশ^ব্যাপী সমালোচিত এখন তারা। এই পুলিশ ইউনিট, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ’র সহায়তা প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ পেয়েছে বলে খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ান। রোহিঙ্গা নির্যাতনের সাথে জড়িত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহযোগি এই পুলিশ ইউনিটকে প্রশিক্ষণ দিলেও, প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ইইউকে খুব একটা সরব হতে দেখা যায়নি।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট জাতিগত সহিংসতার শিকার হয়ে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসেন। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যা, নারকীয় নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তারা বাংলাদেশে আশ্রয়প্রার্থী হয়।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরের ওপর চাপ কমাতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। থাকার জন্য মানসম্মত নতুন ঘর এবং স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন পেয়ে রোহিঙ্গারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও, এ স্থানান্তরে উদ্বেগ জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা।

গেল কয়েকদিন ধরে, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে যখন বিক্ষোভে উত্তাল মিয়ানমার, তখন আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংস হামলার অভিযোগ উঠেছে দেশটির বিশেষ পুলিশ ইউনিটের বিরুদ্ধে। আর এই ইউনিটকে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইইউ’র বিরুদ্ধে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্য দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানায়, ইইউ সহায়তা প্রকল্পের আওতায় মিয়ানমারের পুলিশকে জনসমাগম সামাল দেওয়ার একটি ম্যানুয়াল তৈরিতে সাহায্য করেছিল ইউরোপীয় পুলিশ। ২০১২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটিতে মিয়ানমারের সেনা নিয়ন্ত্রিত পুলিশকে প্রশিক্ষণ ও আধুনিকায়নের যন্ত্রও সরবরাহ করা হয়।

গেল সপ্তাহে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে প্রকল্পটি বাতিল করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে, ইইউ-এর প্রশিক্ষণ পাওয়া এই বিশেষ পুলিশ বাহিনী বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলনকারীদের উপর জলকামান, রাবার বুলেট ও তাজা গুলি নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের এই বিশেষ বাহিনীর একটি ছবি ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায় ওই পুলিশ সদস্য নেপিদোতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছেন।