আমি টিকা নিয়েছি আপনি নিয়েছেন তো?

অন্যান্য

লুবনা আহমেদ : এই দেড় বছরে কিছুদিন পর পর কোভিডের ওয়েভ আমাদের মানষিক,সামাজিক, অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু করে ফেলেছে।

বলতে গেলে আমরা একদম কোনঠাসা কোভিডের কাছে।সবচেয়ে দুখ:জনক একের পর এক আপনজন হাড়িয়ে মৃত্যুর মিছিলের সংখ্যাটার দৌরাত্বে লাগাম টানতে ব্যর্থ প্রায় …!! তারপরও বলবো অনেক উন্নত বিশ্বের আক্রান্ত ও মৃত্যুরহারের তুলনায় আমরা অনেকটাই সুবিধা জনক স্থানে ছিলাম..!! কিন্তু প্রশ্ন হোলো, পুরানো সেই ধারাবাহিকতা কি আমরা ধরে রাখতে পারবো..!!? মানুষ এমন এক প্রানী, সে মনে হয় সব ভয়কে এক সময় জয় করে ফেলে, সে হোক মৃত্যুর মত কঠিন বা শেষ পরিনতি, এরপর আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না..!! না হলে ঈদের সময় আমরা সব যেনে বুঝেও ঝাপ দিয়েছি আগুনের বুকে পতঙ্গের মত,পরিনতি সবাই এখোন দেখছেন।এখোন দ্বিতীয় ইনিংস, আবার সেই মহা উৎসব..!! বাড়িতে কোরবানি করতে যাওয়ার।

ইদের কারনাতো সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, সে কারনে এখোন সব থেকে করুন অবস্থা গ্রামের।মফস্বল শহরগুলোতে প্রতি ঘড়ে ঘড়ে জ্বর কাশি ও গা ব্যাথা।

যেগুলো করোনার উপসর্গ।টেস্টের অপ্রতুলতার জন্য হয়তো সঠিক নির্ণয় সম্ভব হচ্ছে না।তাই বড় একটি দুশ্চিন্তা থেকেই যায় কোরবানির পর কি হবে সবাই যখন ফিরে আসবে এই ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ..!! কোরবানির আসল উদ্দেশ্যইতো হোলো sacrifice, তাহলে আমরা কি পারিনা এই মহামারীরতে( ডেল্টা ভেরিয়েন্ট) এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় না যেয়ে নিজ নিজ বাড়িতে পরিবার সন্তানদের নিয়ে সবার সুরক্ষার কথা ভেবে, নিজ পরিবারের আগলে রেখে সামাজিক দায়িত্ব পালন করে sacrifice করতে?

কি এমন বড় বিষয়, জীবনের একটা ঈদ,একটা কোরবানিইতো..!! এর মধ্যে ই আমারা সবাই ভেকসিনেটেড হয়ে যাবো, ইনশআল্লাহ আগামী ঈদ কোরবানি আমরা আমাদের স্বজনদের সাথেই করবো যদি এখোন নিজেকে ও পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার ও সুস্থ রাখার দায়িত্ব নিই।

যারা অলরেডি চলে গিয়েছেন বাড়ি, তাদের আর নতুন কিছু বলার নেই,শুধু বলবো… নিজেকে সুরক্ষিতো রেখেন ও বাবা মার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবেন যেনো আপনি তাদের জন্য বড় কোনো ক্ষতির কারন না হয়ে যান..!! সকলের জন্য শুভ কামনা ও দোয়া যেনো সুস্থ থাকেন সবাই।

আপনাদের কাছে একটি বিশেষ অনুরোধ, যারা বাড়ি যাচ্ছেন বা গিয়েছেন তারা গ্রামের সহজ সরল মানুষদের করোনা সম্পর্কে সচেতন করুন,এখোনো তারা ভাবে তাদের করোনা হতে পারে না।

এর থেকেও বড় সমস্যা এখোন যেটা, অসুস্থ হলেও হসপিটালে যেতে চায়না কারন ইনজেকশন দিয়ে তাদের মেরে ফেলা হবে বলে, যেহেতু তারা অশিক্ষিত ও সহজ সরল তাই তারা তাদের মত করেই ভাবছে।

নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি কারন আমি আমার নিজ এলাকা পিরোজপুরে কোভিড নিয়ে কাজ করছি।

আপনাদের কাছে সর্বশেষ অনুরোধ, ভেকসিনেশনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে মোটামুটি সব জায়গায়, তাই আপনি নিজে ভেকসিন নিন ও অন্যদেরও ভেকসিন নিতে উৎসাহিত করুন ।এছাড়া আপাতত আমাদের মুক্তি নেই।

আমি ভেকসিন নিয়েছি, আপনি নিয়েছেনতো…??আর হ্যাঁ মাস্কের কথা ভোলাই যাবে না কোনোভাবে..!!! আগাম ঈদ শুভেচ্ছা।