শিকারপুরে জমি বিরোধে প্রতিপক্ষের রামদা হামলায় রুবেল হোসেন গুরুতর আহত, হাসপাতালে ভর্তি, আশঙ্কাজনক অবস্থা ‎

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

এস এম সালমান হৃদয়, (বগুড়া) :   বগুড়া সদর উপজেলার শিকারপুর মৌজায় ১২ দাগের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আজ রবিবার  ২৩ নভেম্বর, মামলার শুনানি শেষে আদালত থেকে বাড়ি ফেরার পথে মিছু সোনার বংশধর রুবেল হোসেনের ওপর প্রতিপক্ষ বাহার উদ্দিনের লোকজন রামদা দিয়ে হামলা চালায়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।


বিজ্ঞাপন

তাকে দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অবস্থার আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। শিকারপুর মৌজার (জে.নং–৭০, খতিয়ান নং–১৭৯ ও ছিয়েস এমআর খতিয়ান নং–১৮০) অনুযায়ী মিছু প্রাং পরিবার উত্তরাধিকারসূত্রে ১২ দাগের মোট ৩ একর ০৯৬ শতক জমির মালিক।

এই দাগগুলো হলো—৮৫৭, ১৩৬০, ১৪৫৬, ১৪৮৪, ১৫২৩, ১৫২৭, ১৫২৯, ১৫৩০, ১৫৪৭, ১৭০০, ১৭৩৭ ও ১৪৭১–৩৪১৪। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ১২ দাগের মধ্যে দাগ নং ১৪৮৪ এর মাত্র ৯ শতক জমি বাহার উদ্দিনের নামে বিক্রি হলেও তিনি নিজের দখলে পুরো ৩ একর ০৯৬ শতক জমি দাবি করছেন। সরকারি এমআরএ রেকর্ড অনুযায়ী তার পিতার নাম জানিব উদ্দিন, যার মিছু প্রাং পরিবারের সঙ্গে কোনো উত্তরাধিকার সম্পর্ক নেই।


বিজ্ঞাপন

বাদীপক্ষের দাবি—বাহার উদ্দিন আইনসীমা ছাড়িয়ে অন্য দাগের জমিও দখল করার চেষ্টা করছেন। তাই জমির প্রকৃত উত্তরাধিকারী মোঃ তছলিম উদ্দিন প্রাং দিং বাদী হয়ে মোকদ্দমা নং–১৪৯/২০২৩ দায়ের করেন।


বিজ্ঞাপন

বিবাদীপক্ষের মধ্যে রয়েছেন বাহার উদ্দিন পাইকারা ও আব্দুল হামিদ। মামলার শুনানি শেষে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছালে বাহার উদ্দিনপক্ষের মোঃ রানা মিয়া (৩৫), সাজু মিয়া (৪০), সেতু (৩২), রাজু (৪২), মোঃ মামুন (৪২), সাদিক (৩০), নুরুন্নবী (৩৫), আইনুর (৫০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জন রুবেল হোসেনকে লক্ষ্য করে রামদা, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রফিকুল ইসলাম বাহার উদ্দিনের পিতা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য সুলতান সরকারের নির্দেশে এই হামলা সংঘটিত হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, মাত্র ৯ শতক জমি ক্রয়ের মাধ্যমে ১২ দাগের বিশাল জমি দখলের চেষ্টা করা এবং সহিংস হামলা চালানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও উদ্বেগজনক। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হামলাকারীদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, আদালতের রায় এবং আইনশৃঙ্খলা সংস্থা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনবে।

👁️ 304 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *