
নিজস্ব প্রতিনিধি (খুলনা) : খুলনার কয়রা উপজেলায় টিআর/কাবিখা খাতের একটি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম, কারচুপি ও উপকরণে নিম্নমানের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় (পিআইও) দুই দফা কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও মাঠ পর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক তদারকি ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে।

অভিযোগকৃত প্রকল্পটি কয়রা সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাট থেকে পাঞ্জে খানাহ মসজিদ পর্যন্ত ওয়াবদা সড়কের ইট সলিং। লগবুক অনুযায়ী রাস্তার দৈর্ঘ্য ৬০০ ফুট, প্রস্থ ৭ ফুট, বালুর বেধ ৪ ইঞ্চি এবং বাজেট আনুপাতিকভাবে প্রায় ৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মুর্শিদা খাতুন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে মাপজোখ কমিয়ে দেখানো, বালু ও উপকরণে কারচুপি এবং নিম্নমানের ইট ব্যবহারের চেষ্টা হয়েছে। একইসাথে তথ্য সংগ্রহে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি, গালিগালাজ ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং মারধরের হুমকির অভিযোগও ওঠে।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরই কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। দুই দফা কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কাজ চালিয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিল বহন করতে হবে বা বিল স্থগিত হতে পারে।”

এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, “বিষয়টি পিআইও অফিস দেখছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য মুর্শিদা খাতুনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তার স্বামী ও গ্রাম পুলিশ সদস্য আব্দুল্লাহ ঢালীর ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয়ভাবে দাবি উঠেছে—বাজেট, এস্টিমেট, সাইট পরিমাপ ও উপকরণের মান যাচাই করে প্রশাসনিক তদন্ত করা হলে প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে। একইসাথে সাংবাদিকতার কাজে প্রতিবন্ধকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

এর পাশাপাশি অভিযোগ রয়েছে—প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য চাইতে গেলে কেউ কেউ এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে পাঠানো হয়। ফলে টিআর/কাবিখা প্রকল্পে তথ্য-স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি বলে মন্তব্য করেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনিক সূত্র বলছে—নির্দেশ অমান্য করে কাজ চালালে প্রকল্পের বিল স্থগিত, দায়ভার সংশ্লিষ্টদের ওপর আরোপ কিংবা প্রকল্প বাতিল পর্যন্ত হতে পারে।
