কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুলে নারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগ : তদন্তের দাবি

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত কর্পোরেট সংবাদ জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

এমতি মাহমুদুর রহমান পিয়াল।


বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :  রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুল (সিটিএস) এবং মালিবাগ ও ওয়ারীতে অবস্থিত কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (সিটিআইএস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহমুদুর রহমান পিয়ালের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষক ও নারী কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং কর্মক্ষেত্রে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত স্টাফদের একটি বড় অংশ নারী। তাঁদের দাবি, নিয়োগ, পদোন্নতি ও চাকরি বহাল রাখার ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি প্রভাব ফেলেছে বলে তাঁদের ধারণা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এমডি মাহমুদুর রহমান পিয়ালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বিজ্ঞাপন
মাহামুদুর রহমান পিয়ালের টকার গরমের নমুনা। রিপোর্ট এক পত্রিকায় প্রতিবাদ কাম বিজ্ঞাপন অন্য পাত্রিকায়।

 

নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন :  প্রতিষ্ঠানের এক নারী কর্মকর্তা দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার তুলনায় অন্যান্য বিবেচনায় নিয়োগ ও পদোন্নতির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে স্কুলের একজন বিদেশি নাগরিক ভাইস প্রিন্সিপালের নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন।


বিজ্ঞাপন
কানাডিয়ান স্কুলের বর্ষ পুর্তি অনুষ্ঠানে সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী ড.দীপু মানি কেক কাটছেন, বক্তব্য রাখছেন, পাকিস্তানি নাগরিক এসিস্ট্যান্ট শিক্ষক আয়েশা (বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক) এমডি মাহমুদুর রহমান পিয়াল সহ অন্যান্য রা বক্তব্য রাখছেন।

 

তাঁর ভাষায়, “যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বাইরে অন্য কোন বিবেচনায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে— তা কর্তৃপক্ষই স্পষ্ট করতে পারে।” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভাইস প্রিন্সিপাল অথবা স্কুল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ : একাধিক নারী শিক্ষক অভিযোগ করেন, কর্মক্ষেত্রে তাঁদের মানসিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নেই। তাঁদের মতে, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করতে গেলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো লিখিত নীতিমালা বা অভিযোগ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাহমুদুর রহমান পিয়াল ও তার ম্যানেজার সুরভির সুরভীতে স্কুলের শিক্ষার পরিবেশের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগের প্রতিক্রিয়া : সম্প্রতি একজন শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কুল সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি পোস্ট দেন বলে জানা গেছে। ওই পোস্ট ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে পোস্টটি আর দৃশ্যমান নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপের প্রশাসকদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষের নীরবতা : এ বিষয়ে স্কুল পরিচালনা পর্ষদ, এমডি মাহমুদুর রহমান পিয়াল এবং প্রশাসনিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাহমুদুর রহমান পিয়াল এর বান্ধবী ম্যানেজার সুরভি’র চমকে স্কুলের পরিচালনা কমিটি দিশেহারা।

 

আইন কী বলে : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা–২০০৯ অনুসারে— প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ গ্রহণ কমিটি থাকা বাধ্যতামূলক, ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দিতে হয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই নীতিমালার বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর, সে প্রশ্নও উঠেছে।

মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ :  মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা একটি মৌলিক অধিকার। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হলে তা প্রশাসনিক ও নৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

শেষ কথা : কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায় নয়— এটি রাষ্ট্র ঘোষিত মানবাধিকার অঙ্গীকারের অংশ। উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করাই এখন সময়ের দাবি।

👁️ 54 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *