চোখের সামনে ছটফট করে হাঁস মরতে দেখছেন খামারি জাহাঙ্গীর

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

মোঃ হাবিবুর রহমান, (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :  প্রথমে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে থাকে। এরপর ঘাড় বাঁকা হয়ে যায়। এরপর কাঁপতে কাঁপতে মৃত্যু। এভাবে গত চার দিনে প্রায় তিনশ’ হাঁস মারা গেছে প্রবাসফেরত খামারি জাহাঙ্গীর মোল্লার। নিজ চোখেই তিনি দেখছেন হাঁস মারা যাওয়ার এমন দৃশ্য। এতে নিজেরও নাওয়া-খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।


বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে জাহাঙ্গীর মোল্লার হাঁসের খামার। মাস চারেক আগে তিনি গড়ে তুলেন এ খামারটি। তিন দিন আগেও এ খামারে এক হাজার ৫৫টি হাঁস ছিলো, যা এখন আটশ’ তে এসে ঠেকেছে।
হাঁসের এমন পরিণতিতে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন জাহাঙ্গীর মোল্লা।

ঈদ আনন্দ যেন তার জন্য বিষাদে পরিণত হয়। বারবার বলেও প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কাউকে আনাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা যোগাযোগের পর শনিবার সকালে এ প্রতিবেদক বসে থাকার সময় সংশ্লিষ্টরা ছুটে আসেন। এ বিষয়ে তারা পরামর্শ দিয়ে যান। এ সময় জানানো হয়, কীটনাশক থাকা জমিতে নেমে খাওয়া কিংবা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে এমন হয়ে থাকতে পারে।


বিজ্ঞাপন

ক্ষতিগ্রস্থ খামারী মো. জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, ‘প্রবাস থেকে এসে কৃষি করতাম। আগে থেকেই চিন্তাভাবনা থাকায় মাস চারেক আগে হাঁসের খামার গড়ে তুলি। মোট এক হাজার ৫৫টি হাঁস হয় খামারে। ১৫-২০ দিন পরই কিছু হাঁস ডিম পারা শুরু করতো। এরই মধ্যে ঈদ দিন থেকে একে একে হাঁস মরতে শুরু করে।’


বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘একাধিকবার প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি। স্থানীয় ফার্মেসিতে জিজ্ঞেস করে হাঁসের টিকা দেওয়াসহ অন্যান্য সেবা দেই। কয়েকদিন ধরে হাঁস মরতে শুরু করে। প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে বলা হয় ঈদের ছুটির কারণে কিছু করা সম্ভব না। পরে শনিবার এসে তারা কিছু ওষুধ লিখে দিয়ে যায়।’

জাহাঙ্গীরের বৃদ্ধ বাবা মো. হারিছ মোল্লা বলেন, ‘প্রায় আড়াইশ’ হাঁস মারা গেছে। অন্তত ৫০টি’র মতো হাঁস জবাই করে পরিচিতদেরকে দিয়ে দিয়েছি। আরো হাঁস অসুস্থ হয়ে আছে। এ অবস্থায় আমার ছেলে খাওয়া-দাওয়াও করছে না। খামার নিয়ে সে বেশ চিন্তিত।’

আখাউড়ার উপ-সহকারি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আশিকুজ্জামান বলেন, ‘ভাইরাস সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে হাঁস মরে থাকতে পারে। পাশে যে জমিতে নেমে হাঁস খাবার খায় সেটাতে কিটনাশক থাকলে সেটাও একটা কারণ হতে পারে।

এছাড়া হাঁস রাখার যে ঘরটি সেটি ছোট হওয়ার কারণেও এমন হতে পারে। ওই খামারিকে আমরা কিছু পরামর্শ দিয়েছি। এছাড়া চিকিৎসা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ওষুধ লিখে দেওয়া হয়েছে।

👁️ 40 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *