!!  বিশেষ প্রতিবেদন !!  নড়াইলের গর্ব তৌফিকুর রহমান  : সততা, দক্ষতা ও মানবিক নেতৃত্বে উজ্জ্বল এক প্রশাসক

Uncategorized ইতিহাস ঐতিহ্য খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নড়াইলের কৃতি সন্তান মো. তৌফিকুর রহমান। বিসিএস (প্রশাসন)।


বিজ্ঞাপন

বিশেষ প্রতিবেদক  :  দেশের প্রশাসনিক অঙ্গনে দক্ষতা, সততা ও জনমুখী নেতৃত্বের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নড়াইলের কৃতি সন্তান মো. তৌফিকুর রহমান। বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে বগুড়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে তিনি খুলনার জেলা প্রশাসক হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রশাসনিক দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।


বিজ্ঞাপন

নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা সিটি কলেজ পাড়ায় জন্ম নেওয়া তৌফিকুর রহমানের সাফল্যের গল্প আজ জেলার তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপে মেধা, অধ্যবসায় এবং দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে তিনি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করেছেন।
শিক্ষাজীবনে মেধার স্বাক্ষর


বিজ্ঞাপন

শৈশব ও কৈশোর কেটেছে নড়াইলের মাটিতে। তিনি ১৯৯২ সালে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর দেশের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।

উচ্চশিক্ষায় তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষার প্রতি তাঁর অনুরাগ এখানেই থেমে থাকেনি। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন।

প্রশাসনিক জীবনের সফল অভিযাত্রা  :  প্রশাসনিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি দায়িত্বশীলতা ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সাতক্ষীরায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে মাঠ প্রশাসনে তাঁর পথচলা শুরু হয়।

পরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় প্রশাসনে দক্ষ নেতৃত্বের পরিচয় দেন।

পরবর্তীতে কুষ্টিয়া ও খুলনার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন কার্যক্রম, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনবান্ধব প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। বর্তমানে বগুড়ার জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি জেলার সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

নড়াইলের গর্ব, দেশের সম্পদ  :  প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা সাধারণত নিজ জেলা বা উপজেলায় ডিসি কিংবা ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন না।

ফলে নড়াইলের মাটিতে সরাসরি জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ না পেলেও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলায় তাঁর সফল কর্মদক্ষতা নড়াইলবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।

কুষ্টিয়া, খুলনা ও বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সাফল্য শুধু সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়নেই অবদান রাখেনি, বরং জাতীয় পর্যায়ে নড়াইল জেলার ভাবমূর্তি ও মর্যাদাও বৃদ্ধি করেছে।

সামাজিক উদ্যোগেও সক্রিয়  :  প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে ‘নড়াইল ৯২ ব্যাচ’সহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অবদান রেখে চলেছেন।

স্থানীয় জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। তাঁর এসব উদ্যোগ মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজসেবার প্রতি গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা  :  মফস্বল শহরের একজন শিক্ষার্থী থেকে দেশের উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে ওঠার এই যাত্রা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। তাঁর জীবনসংগ্রাম ও সাফল্য নতুন প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে শেখায়, কঠোর পরিশ্রমের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে শেখায় এবং দেশসেবার মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে।

নড়াইলের এই কৃতি সন্তান আজ শুধু একটি জেলার গর্ব নন; তিনি দেশের প্রশাসনিক সেবায় নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মকর্তা, যাঁর কর্মদক্ষতা, সততা ও মানবিক নেতৃত্ব আগামী দিনের প্রশাসনের জন্যও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

👁️ 62 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *