কক্সবাজারে  বিরতিহীন বৃষ্টিতে পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিতর শংকা

Uncategorized গ্রাম বাংলার খবর চট্টগ্রাম জন দুর্ভোগ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কক্সবাজার,(মাতামুহুরি)  :  বিরতিহীন ভারি বৃষ্টি ও পাহাড় থেকে বৃষ্টির পানি মাতামুহুরী নদী হয়ে উজানে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কক্সবাজারের পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

এতে দুই উপজেলার অন্তত ১৩টি ইউনিয়নের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক।

বিরতিহীন বৃষ্টির কারণে পেকুয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ১০/১৫টি ও মাতামুহুরী উপজেলার ৭ ইউনিয়নের১৫/২০টি গ্রামের লোকালয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পতিত হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন

পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি বৃদ্ধি পেলেও আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।


বিজ্ঞাপন

তবে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ বন্যার শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দুই উপজেলার মানুষ। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়বেষ্টিত গ্রামীণ এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে নিরাপদে সরে যাওয়ার জনয সতর্ক করা হচ্ছে পাহাড়ে বসবাসকারীদের।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করার পরও পাহাড়ে বসবাসকারীরা নিরাপদ স্থানে সরে না যাওয়ায় বিকেল সাড়ে ৫ টার সময় টইটং ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের আলম্ম্যার ঝিরি এলাকায় ভারি বর্ষণের তোড়ে পাহাড় ধ্বসে মোহাম্মদ মিরাজ( ৮) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশু মিরাজ একই এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে বলে জানান চৌকিদার সাহাব উদ্দিন বাবুল।

দুই উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, অতি ভারি বর্ষণের কারণে ইউনিয়নগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এবং মাতামুহুরী নদীতে উজানের ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ বন্যার পদধ্বনি দেখা দিচ্ছে।

পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও মো. শাহীদ দেলোয়ার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে সেজন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর পানি নিষ্কাশনের স্লুইস গেটগুলির কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম পাহাড় ধ্বসে শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে সংবাদ পেয়েছে বলে জানান এবং দূর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও নিশ্চিত করেন।

👁️ 24 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *