
শাহরিয়ার কবির (খুলনা) : খুলনার পাইকগাছায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী উপজেলার ভিলেজ পাইকগাছা মৃত দলীল উদ্দিন গাজীর ছেলে আতিয়ার রহমানের বসতঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়েছে দুটি ছাগলও ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনা ঘটে ১৭ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে। আতিয়ার রহমানের পরিবারের সদস্যরা ঘুমোচ্ছিলেন, তখন তার মেয়ে মুর্শিদা আগুন লাগার দৃশ্য দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। তাঁর ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রান্নাঘর থেকে বসতঘরে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনে পুরো রান্নাঘর, বসতঘর, আসবাবপত্র এবং তিনটি বাইসাইকেল পুড়ে গেছে। পালিত দুটি ছাগলও দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। আতিয়ার রহমান ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক পরিমাণ এক লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সবকিছু এক মুহূর্তে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আমাদের কিভাবে শুরু করব, ভেবে পাচ্ছি না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আগুন নেভানোর চেষ্টার আগেই বসতঘর প্রায় সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, উপজেলার কোথাও ফায়ার স্টেশন না থাকায় আগুন লাগলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশ্ববর্তী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসার আগে অনেক সময় ক্ষতি হয়ে যায়, আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়।

এলাকাবাসী দাবি করেছেন, উপজেলায় দ্রুত ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি না হয়। তারা বলছেন, প্রতিবার এমন ঘটনা ঘটলে মানুষকে নিজেরাই ভস্মীভূত জীবনের সাথে লড়তে হয়। সরকারি ব্যবস্থা না থাকলে ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়।
এই অগ্নিকাণ্ডে আতিয়ার রহমান ও তার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আশাবাদী। তিনি জানান, সরকারি সহায়তা পেলে ধীরে ধীরে জীবন পুনর্গঠন সম্ভব হবে। প্রতিবেশীরা তার পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য এগিয়ে দিচ্ছেন।
ছোট্ট বসতঘর, যা পরিবারের স্মৃতি আর দৈনন্দিন জীবনের আশ্রয় ছিল, এক মুহূর্তে ছাই হয়ে গেল। এলাকার মানুষদের চোখে আতঙ্ক, আর পাশে থাকা প্রতিবেশীর সাহায্য যেন সামান্য শীতলতা এনে দিল মানবিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
