
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশজুড়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চলমান দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একের পর এক চাঞ্চল্যকর এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। টাঙ্গাইল, পটুয়াখালী ও ঝিনাইদহ—তিন জেলায় পৃথক অভিযানে বিপুল অর্থ আত্মসাত, ঘুস বাণিজ্য ও প্রশিক্ষণ প্রকল্পে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে সংস্থাটি। অভিযানের পর সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক টিম।

টাঙ্গাইলে পৌরসভা তহবিল লুটসহ প্রাথমিক প্রমাণ মিলল ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ : টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর পৌরসভায় পৌর তহবিল ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক জেলা কার্যালয়, টাঙ্গাইল আজ এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়।
সংগৃহীত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, হিসাবরক্ষক মিজানুর রহমান আছাদ কর্তৃক— পৌরসভার ভবিষ্যৎ তহবিল, আনুতোষিক তহবিল, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারি জামানত এবং সরকারি কোষাগারের ভ্যাট ও আয়করসহ মোট ৭৮,৪৭,৭৪৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি নিজ বেতন অতিরিক্ত নির্ধারণ করে প্রকৃত প্রাপ্য বেতনের অতিরিক্ত ৬,৪৬,৩১৮ টাকা উত্তোলন পূর্বক আত্মসাৎ করেছেন—যা বিভাগীয় তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযান পরিচালনা কালে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুদক টিমকে জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তা অর্থ আত্মসাতের দায় স্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে পৌরসভার সচিব মনিরুজ্জামান প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ারুল কায়সার–এর সঙ্গে যোগসাজশে ১২,১০,০০০ টাকার এফডিআর আত্মসাৎ করেছেন বলে তথ্য পায় দুদক।
এছাড়াও মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে—নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভা থেকে ১৪,২৫,০০০ টাকা, জামালপুরের মেলান্দহ পৌরসভা থেকে ১৪,২৫,০০০ টাকা, আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক আত্মসাতকৃত অর্থ কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদানের তথ্যও পেয়েছে দুদক। সার্বিক পর্যালোচনায় মধুপুর, মেলান্দহ ও মাধবদী পৌরসভায় সর্বমোট ১,২৫,৫৪,০৬৬ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক টিম।
পটুয়াখালীতে ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণে ঘুস বাণিজ্য ও টেন্ডার অনিয়ম : জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ে ওভারহেড ট্যাংকের কার্যাদেশ প্রদানে ঘুস লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালী পৃথক এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালায়।
টিম প্রথমে অভিযোগস্থল পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর বক্তব্য গ্রহণ করে। পরে টেন্ডার প্রক্রিয়া সংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ডপত্র নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট থেকে সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। রেকর্ডপত্র পর্যালোচনান্তে কমিশন বরাবর বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানায় দুদক।
ঝিনাইদহে বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত প্রশিক্ষণ প্রকল্পেও অনিয়ম—প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় ! মাগুরা জেলার কৃষি বিপণন অধিদপ্তর পরিচালিত পার্টনার-ডিএএম প্রকল্পে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, নিম্নমানের খাবার সরবরাহ এবং নির্ধারিত প্রশিক্ষকের অনুপস্থিতিতে ক্লাস পরিচালনার অভিযোগে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঝিনাইদহ অভিযান পরিচালনা করে।
দুদক টিম জানতে পারে, বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে ৬৪ জেলায় ২০,০০০ প্রশিক্ষণার্থীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ (মাশরুম) বিষয়ে ১২টি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের বক্তব্যে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের কঠোর বার্তা : একাধিক জেলায় একযোগে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে— রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ, ঘুস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে অটল রয়েছে দুদক। সংগৃহীত প্রমাণাদি পর্যালোচনাপূর্বক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
