
বিশেষ প্রতিবেদক : আনন্দবাজার পত্রিকার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন কিছু কথিত সমঝোতার ইঙ্গিত, যা সত্য হলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তৈরি করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্ভাব্য একটি রাজনৈতিক বন্দোবস্তে তিনটি শর্ত সামনে এসেছে— এক. ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে যুক্তদের পুনর্বাসন, দুই. বাংলাদেশের অস্ত্র ক্রয়ে প্রতিবেশী দেশের অনুমতির বাধ্যবাধকতা, তিন. দেশীয় ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তির দমন।
এই দাবিগুলো যদি পুরোপুরি সত্য নাও হয়, তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়—এত গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের পর প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নীরবতা কেন? না প্রতিবাদ, না ব্যাখ্যা, না স্পষ্ট অস্বীকার। রাজনীতিতে নীরবতা কখনো কখনো কৌশল। কিন্তু জনমনে প্রশ্ন উঠছে—এই নীরবতা কি সম্মতির ইঙ্গিত?

বিএনপির ভেতরের অসংগতির সংকেত : সমালোচকদের মতে, বিএনপির নেতৃত্ব কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরেই গণতান্ত্রিক চর্চার ঘাটতি, অভ্যন্তরীণ মতপ্রকাশের সংকোচন এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রবণতা স্পষ্ট। অতীতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দলটির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই বাস্তবতায় জনগণের বড় অংশ আশঙ্কা করছে— ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কি সত্যিই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দেবে, নাকি পুরনো কর্তৃত্ববাদই ফিরে আসবে ভিন্ন মোড়কে?

দিল্লির কুশীলবদের ভূমিকা : কূটনৈতিক শিষ্টাচার নাকি অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি— বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে প্রতিবেশী শক্তির অতিরিক্ত আগ্রহ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কূটনৈতিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে— সংবেদনশীল ইস্যুতে প্রকাশ্য অবস্থান, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক, এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অদৃশ্য প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। কূটনীতি সাধারণত নীরব ও পরিমিত। কিন্তু যখন কূটনৈতিক তৎপরতা দেশীয় রাজনীতিতে সরাসরি আলোচ্য হয়ে ওঠে, তখন তা কেবল কূটনীতি থাকে না— তা জাতীয় আত্মমর্যাদার ইস্যুতে পরিণত হয়।
নতুন প্রজন্মের বার্তা : আপস নয়, আত্মসম্মান : বাংলাদেশ আজ আর আগের বাংলাদেশ নয়। একটি রাজনৈতিক প্রজন্ম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ যাচ্ছে। এই প্রজন্ম প্রশ্ন করে— ক্ষমতার জন্য বিদেশি সমর্থন নয়, চায় জনসমর্থনের বৈধতা। তারা জানে— রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কোনো দলীয় দরকষাকষির বিষয় হতে পারে না।
শেষ কথা : আনন্দবাজারের প্রতিবেদন সত্য হোক বা অতিরঞ্জিত— বিএনপির দায়িত্ব ছিল জনগণের সামনে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া।
সে দায়িত্ব পালন না করলে, জনগণ নিজের মতো করেই ব্যাখ্যা তৈরি করবে। আর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাখ্যা জন্ম নেয়—নীরবতা থেকে।
