# রাজনৈতিক চরিত্রহনন টার্গেটে নোয়াখালী বিএনপি’র হারুন # নোয়াখালী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুলের দ্বৈত বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ # একই কাজের বিপরীতে দ্বৈত চেক ও জিডি করে বদনাম চেষ্টার অভিযোগ #


নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ এ মাহবুব আলমগীর আলোকে আহ্বায়ক এবং মোঃ হারুনুর রশিদ আজাদকে সদস্য সচিব করে নোয়াখালী জেলা বিএনপির পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ হারুনুর রশিদ আজাদ সাবেক নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সাবেক নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক নোয়াখালী পৌর সভার মেয়র। বলা হয়ে থাকে নোয়াখালীতে তার মতো জনপ্রিয় এবং কর্মীবান্ধব নেতা আর নেই।
তার নেতৃত্বেই নোয়াখালীতে বিএনপি ঘুরে দাড়িয়েছে। তাকে বদনাম করা গেলে জেলায় বিএনপি এর পতন হতে পারে। আর এটা ফ্যাসিস্ট হাসিনার কুশীলবদের জানা। এজন্যই এবার তারা বেছে নিয়েছে তাকে বদনাম করার জন্য । আর এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ওবায়দুল কাদের এর স্নেহভাজন ও সাদিক আব্দুল্লাহ্’র আত্মীয় নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল হাছানকে। মোঃ কামরুল হাছান নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে টানা ২য় বারের মত সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ফ্যাসিবাদের সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর স্নেহভাজন, একান্ত আস্থাভাজনসহ তার অর্থের যোগানদাতা হিসাবে খ্যাত হয়ে-ই নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে পদায়ন পান।

এরপর কামরুল সুযোগ খুজতে থাকেন। গত ০৭ মে ২০২৫ এ টেন্ডার আইডি ১০৮৬৯৫৬ এর মাধ্যমে নোয়াখালী সার্কিট হাউজের ভেতরে ফুল বাগানের দক্ষিণ পাশে ডিসি বাংলোর গেট থেকে সার্কিট হাউজের গ্যারেজ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার ও উঁচুকরণ কাজটি মোঃ হারুনুর রশিদ আজাদ এর মালিকানাধীন কোম্পানি M/S Azad Enterprise লটারির মাধ্যমে পায়। জুন মাসে কাজ শেষ করে বিল দেয়া হয়।

পরবর্তীতে ১০/১২ দিন পর একই বিল আরেকবার দেয়া হয়েছে মোঃ হারুনুর রশিদ আজাদ কে না জানিয়ে। এবার তাকে বলা হয় যে এটা অন্য আরেকজনের একটা বিলের চেক। এন্ট্রি দেয়ার সময় ভূল করে আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে চেক এন্ট্রি হয়ে গেছে। আপনি চেক ক্যাশ করে টাকা দিয়ে দেন। আমরা যার বিল তাকে ক্যাশ টাকায় বিলটি পরিশোধ করবো।
এ কথা বলে তার থেকে সম্পূর্ণ টাকা ক্যাশে নিয়ে আত্মসাত করেন নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল। মেসার্স আজাদ এন্টারপ্রাইজ কে একই পরিমাণ অর্থের দুটি চেক মারফত বিল পরিশোধ করা হয়েছে। প্রতিটি চেকের মাধ্যমে মোট বিলের পরিমাণ ছিল ১০,৭৯০৪৮.০০ টাকা।
উক্ত বিলের বিপরীতে প্রতিটিতে জামানত কর্তন করা হয়েছে ১৪,২১২৬.০০ টাকা, ভ্যাট কর্তন ১০,৫৫৯৮.০০ টাকা এবং আয়কর কর্তন ৯,৯৪৮৮.০০ টাকা। প্রতি ক্ষেত্রে মোট পরিশোধিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪,২১,২৫৬.০০ টাকা। অর্থাৎ একই কাজের বিপরীতে দ্বৈত চেক ইস্যু ও নগদ লেনদেনের এক অন্ধকার খেলা ! এমনটাই অভিযোগ।
‘জিডি করে বদনাম’–অভিযোগ আরও ভয়ংকর : সূত্রের ভাষা আরও তীক্ষ্ণ । অভিযোগ আছে, এই দ্বৈত বিলের নাটক সাজানোর পর পরবর্তী ধাপে পরিকল্পনা ছিল হারুনুর রশিদ আজাদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে মিডিয়ার সামনে বলা “ভয় দেখিয়ে ভূয়া এন্ট্রি ও চেক তুলেছে হারুন।”
অর্থাৎ, টেন্ডার-বিলের ‘ফাঁদ’ পেতে একই সঙ্গে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক চরিত্রহনন—এটাই ছিল মূল লক্ষ্য, এমনটাই দাবি বিএনপি ঘরানার। কিন্তু ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। অভিযোগ মতে, দপ্তরের ভেতরের বিএনপি সমর্থক কর্মচারীরা বিষয়টি টের পেয়ে সরাসরি বাধা দেন। তারা স্পষ্ট করে বলেন, এমন হীন চক্রান্ত করলে এর পরিণতি ভয়ংকর হবে।
পরিস্থিতি আঁচ করে নাকি কামরুল পিছিয়ে যান, ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং কর্মচারীদের কাছে বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করার জন্য করজোড়ে মিনতি করেন। অনুরোধ জানান। এভাবেই জনাব হারুনের কর্মীরাই তার মান রক্ষা করেছে। কথায় আছেনা, “আল্লাহ যাকে সম্মান দেন, তাকে কেউ অপমান করতে পারে না। “রাখে আল্লাহ তো মারে কে? ”
কমিশন সিন্ডিকেট: ঠিকাদারি না হরিলুটের বাজার ? নোয়াখালী গণপূর্ত অফিস নিয়ে ঠিকাদার মহলে যে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি শোনা যায় তা হলো “কামরুলের কমিশন সিন্ডিকেট ছাড়া এখানে কিছুই হয় না”।
অভিযোগসমূহের সারমর্ম : নোয়াখালীর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের রয়েছে একটি ঠিকাদার কমিশন সিন্ডিকেট। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ বছর এ দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে আসীন ছিলেন। সে সময়েই ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি একরাম ও সাবেক মেয়র পিন্টু এর সহোযোগীতায় গড়ে তোলেন এ আওয়ামী সিন্ডিকেট।
নারী কেলেংকারীর জন্য বিখ্যাত কামরুল কিছুদিন পরপর অল্প বয়সী মেয়েদের মূতা বিয়ে নামক সাময়িক বিয়ে করেন। ২/১ মাস পরপর বউ পালটানো তার নেশা। আর এ কাজে তার সহযোগী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবদুল ছাত্তার আহাদ এর স্বত্তাধীকারী এবং ভাংগারী ব্যাবসায়ী মোহাম্মদ মামুন।
এই মামুনের নামে তিনি ২৪২/এ, ফকিরপুর,রশিদ কলোনী, মাইজদীতে একটি তিন তলা বাড়ি করেছেন। এই বাড়ির ২য় তলায় রয়েছে কামরুলের এক বউ। বসুন্ধরা রিভারভিউ এর সারিঘাট পয়েন্টের ব্রিজের সাথে কয়েক বিঘা জমি। একটি দোতলা বাড়ি। দোতলার উপরে একটি টিনশেড রুম করে সেখানে তিনি মাঝে মধ্যে থাকেন।
এসব সম্পদ তিনি করেছেন তার সম্বন্ধী (স্ত্রীর বড় ভাই) এর স্ত্রীর নামে। তার সম্বন্ধী ডাক্তার এবং সম্বন্ধীর স্ত্রী পেশায় নার্স। একটা সময় বদলি হয়ে বরিশালে পদায়িত হওয়ার পর আওয়ামী সিন্ডিকেট সদস্যরা ফের তদবির করে তাকে নোয়াখালীতে নিয়ে আসেন। সঙ্গতকারণে তার এই সিন্ডিকেটের বাইরে এখানে কেহ ঠিকাদারি করার সুযোগ পায়না।
