
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : গোপালগঞ্জে হাম-রুবেলা রোগ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন শিশুদের এই ভয়াবহ রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে টিকাদান কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে।

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, হাম-রুবেলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ব্যাধি মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত সফল। তবে এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং জেলার প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের তৎপর থাকতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ বলেন, এই ক্যাম্পেইনকে সফল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব এবং এই লড়াইয়ে আমাদের জয়ী হতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডাঃ আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক জানান, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ে টিকা প্রদান করুন। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক প্রচারণার মাধ্যমেই এই কর্মসূচিকে শতভাগ সফল করা সম্ভব।
সভায় বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, হাম-রুবেলা নির্মূলে কেবল সরকারের একার পক্ষেই সব করা সম্ভব নয়; এর জন্য শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
অভিভাবকদের সচেতন করা এবং টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রচারণার ওপর জোর দেওয়া হয়। উক্ত সভায় জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলে গোপালগঞ্জ জেলাকে হাম-রুবেলা মুক্ত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
