
গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে মানহানিকর পোস্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভয়ভীতি ছড়াত। এছাড়া উড়ো চিঠি ও মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর নকল করেও প্রতারণা চালানো হতো বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শহিদ সিকদার (২৮) নামের এক যুবককে আটক করে Kalihati Police Station। আটক ব্যক্তি উপজেলার পারখি ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার অফিসার ইনচার্জ J O M Toufiq Azam। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে আরও কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যও পাওয়া গেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার এখন নতুন ধরনের সামাজিক সন্ত্রাসে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভয়েস ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সাংবাদিক শাহ আলম বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কাউকে অপমান, ভয়ভীতি বা চাঁদাবাজির শিকার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করতে হবে, অপরাধে নয়।”
সাংবাদিক মনিরুজ্জামান উদ্দিন বলেন, “ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার ও ব্ল্যাকমেইল কোনো সাংবাদিকতা নয়, এটি স্পষ্ট সাইবার অপরাধ। দ্রুত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।”
সিনিয়র সাংবাদিক গৌরাঙ্গ বিশ্বাস বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ছড়ানোর প্রবণতা সমাজের জন্য বিপজ্জনক। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, কালিহাতী থানার ওসি বডিগার্ড আনিস নামের এক পুলিশ এ ধরনের বিভিন্ন অপকর্মের ব্যক্তি, সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। এমনকি কর্মস্থল গাজীপুর জেলায় বদলি হওয়ার পরও কালিহাতিতে বাসা বাড়ি নিয়ে অবস্থান করে। তার বিরুদ্ধে বহু পত্র-পত্রিকায় বালুরঘাট এবং বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে বর্তমানেও জড়িত আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করা এবং সন্দেহজনক আইডি বা কনটেন্ট দ্রুত রিপোর্ট করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও বাড়াতে হবে।
