ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ রেজায়ে রাব্বীকে নিয়ে প্রকাশিত কথিত “চাঞ্চল্যকর” প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান সংশ্লিষ্টদের 

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ রেজায়ে রাব্বীকে নিয়ে প্রকাশিত কথিত “চাঞ্চল্যকর” প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে মানহানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা ও শাহবাগ থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে, যা নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি “ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালকের ক্যাশিয়ার রেজায়ে রাব্বী!” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ রেজায়ে রাব্বীর বিরুদ্ধে সরকারি কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া, প্রভাব খাটিয়ে পদায়ন বাণিজ্য, আন্দোলনকালীন বিতর্কিত ভূমিকা এবং প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।


বিজ্ঞাপন

তবে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। মিথ্যা তথ্য প্রচার করে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করাই ছিল এই অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য।

এ ঘটনায় প্রথমে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন আবদুল হান্নান নামে এক ব্যক্তি। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, তথাকথিত এক সাংবাদিকসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে অর্থ দাবি করেন এবং টাকা না দেওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি দেন। জিডি নং-১৫১০, তারিখ ২২ মে ২০২৬ অনুযায়ী, প্রেসক্লাব এলাকায় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অভিযুক্তরা যেকোনো সময় তার ক্ষতি করতে পারে।

অন্যদিকে একই দিনে রাজধানীর রমনা থানায় আরেকটি জিডি করেন ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ রেজায়ে রাব্বী। জিডি নং-১৫৫৬-এ তিনি অভিযোগ করেন, “Daily Sobuj Bangladesh” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ ভিডিও আকারে প্রচার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদের পরও পুনরায় আরও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রেজায়ে রাব্বীর দাবি, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অপপ্রচার মূলত একটি সুপরিকল্পিত মানহানির ষড়যন্ত্র। প্রশাসনিক তদন্তাধীন বিষয়গুলোকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সাংবাদিকতার আড়ালে কি একটি অসাধু চক্র ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে?

কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি অনুসন্ধান ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশ হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন সচেতন মহল।

কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে চাঞ্চল্য তৈরির উদ্দেশ্যে একপাক্ষিক প্রচারণা শুধু ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকেও বিব্রত করে বলে মনে করছেন তারা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার ও সুনামহানির প্রবণতা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকতা ও অপসাংবাদিকতার মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনগত পর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে। একই সঙ্গে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আলোচনা রয়েছে।

ঘটনাটি এখন শুধু একটি ব্যক্তিকে ঘিরে বিতর্ক নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য সন্ত্রাস এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

👁️ 38 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *