বেনাপোলে আওয়ামী লীগ পরিবারের মাদকের অভয়ারণ্য ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ‘রেহানা পরিবার’ সিন্ডিকেট

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি (বেনাপোল)  :  বেনাপোল: বেনাপোলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভবেরবেড় গ্রাম এখন আর সাধারণ জনবসতি নয়, বরং এটি এখন মাদকের এক বিশাল ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ ঘাটি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দা রেহানা বেগম এবং তার সন্তানদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই মাদক সিন্ডিকেটটি স্থানীয় পর্যায়ে এতটাই শক্তিশালী যে, প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকেও তারা বছরের পর বছর তাদের অবৈধ সাম্রাজ্য বিস্তার করে চলেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই পুরো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নাম এবং প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।


বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক আশ্রয়ে মাদকের রাজত্ব  :  দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার দাবি তুলে রেহানা পরিবারটি এলাকায় এক ধরণের ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা তাদের মাদক ব্যবসার ভিত্তি শক্ত করেছে। আজও দেখা যায়, স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগের প্রতিটি রাজনৈতিক প্রোগ্রাম বা সভার একটি বড় অংশ তাদের বাড়িতেই অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক আশ্রয়ের এই বলয় তৈরি করার কারণেই স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ইতস্তত বোধ করে। প্রশ্ন উঠেছে, দলীয় প্রোগ্রামের আড়ালে কি নিয়মিত মাদকের এই রমরমা কারবার ঢাকা পড়ে যাচ্ছে?

বর্তমান ক্ষমতার সমীকরণ ও অদৃশ্য বলয়  :  রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া বইলেও এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমেনি। এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, তারা এখনো ক্ষমতার বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। বর্তমানে তারা কোন মহলের আশীর্বাদপুষ্ট বা কিভাবে প্রশাসনিক নজরদারি এড়িয়ে এখনো মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে—তা নিয়ে এলাকায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও কৌতূহল বিরাজ করছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা এই শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এখন বেনাপোলের জন্য এক বড় ‘ব্ল্যাকমেইল’ ও আতঙ্কের নাম।


বিজ্ঞাপন

ওপেন সিক্রেট আস্তানা ও চোরাচালানের মাস্টারমাইন্ড : সিপন, ইরশাদ নয়ন এবং সাদ্দাম—এই তিন ভাই এবং তাদের বোন ঝর্ণার নিয়ন্ত্রণে থাকা বাড়িটি এখন মাদকের পাইকারি আড়ত। ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও নেশাজাতীয় সিরাপের এক বিশাল বাজার বসেছে সেখানে। সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো, বেনাপোল সীমান্ত এলাকাকে ব্যবহার করে তারা শুধু মাদক ব্যবসাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা বেনাপোলের চোরাচালান সিন্ডিকেটের অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবেও কাজ করছে।


বিজ্ঞাপন

প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের আলোয় এই ব্যবসা চললেও, তাদের রাজনৈতিক দাপটের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।

সাধারণ মানুষের আর্তনাদ ও জননিরাপত্তা ঝুঁকি  :  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বলেন, “রাজনৈতিক পরিচয় তাদের বড় শক্তি। এলাকায় কোনো অনুষ্ঠান বা সভা মানেই তাদের বাড়িতে ভিড়। এই আড়ালেই তারা মাদকের চালান খালাস করে। আমরা সাধারণ মানুষ, তাদের ভয়ে তটস্থ থাকি। প্রশাসন সব জানে, কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পায় না।”

মাদকের সহজলভ্যতায় এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

নাগরিক দাবি ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা  :  বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকা দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। সেখানে মাদকের এমন বিষবৃক্ষ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। নাগরিক সমাজের জোরালো দাবি:

১. রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধীকে বিচার করা হোক: মাদকের সাথে যুক্ত যে কোনো ব্যক্তি,সে যে দলেরই হোক না কেন,তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করে আইনের মুখোমুখি করতে হবে। ২. উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধান কমিটি গঠন: প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের মাধ্যমে এই পরিবারের বর্তমান ক্ষমতার উৎস এবং রাজনৈতিক সংযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। ৩. সাঁড়াশি অভিযান: ভবেরবেড় ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের এই আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টিম নিয়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হোক।

মাদকের এই বিষাক্ত থাবা থেকে বেনাপোলকে বাঁচাতে এখন কেবল সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন প্রশাসনের কঠোর ও সাহসী পদক্ষেপ। রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি বন্ধ করে প্রশাসন কি এবার সরাসরি অ্যাকশনে যাবে? নাকি এই ‘রেহানা পরিবার’ সিন্ডিকেট এভাবেই বেনাপোলের ধ্বংস ডেকে আনবে,সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।

প্রতিবেদকের মন্তব্য: এই প্রতিবেদনে বর্ণিত প্রতিটি তথ্য স্থানীয়দের চরম ভুক্তভোগী অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মাদকের এমন অবাধ বিস্তার রোধ করা বর্তমান সময়ে জননিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে জরুরি দাবি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টিতে জরুরি হস্তক্ষেপ করবেন,এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

যশোর জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, পিপিএম-এর মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা সত্ত্বেও বেনাপোল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—যদি সত্যিই এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে তা কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলছে? সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কার্যকর নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জনস্বার্থে অভিযোগগুলোর দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

👁️ 33 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *