
নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলা নিষ্পত্তিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। এক কার্যদিবসে ৭ হাজার ৮৫৩টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন হাইকোর্ট বিভাগের ১০টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) হাইকোর্ট বিভাগের ১০টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে এসব পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। একদিনে পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যক নিষ্পত্তির নতুন রেকর্ড বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি শুরু হওয়া পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত ৯টি কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ৩৫ হাজার ৭৯২টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা ও পুরোনো রিট মামলা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার ৬৯৯টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় বিশেষ উদ্যোগ : মামলাজট কমানো, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং বিচার ব্যবস্থায় গতি ফিরিয়ে আনতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় হাইকোর্ট বিভাগে বিশেষ এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানিয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চসমূহে দীর্ঘদিনের পুরোনো মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
৭ মে থেকে শুরু হয় বিশেষ কার্যক্রম : হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের সমন্বয়ে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এই বিশেষ উদ্যোগ শুরু হয় গত ৭ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে। ওই সময় থেকে ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চসমূহের বিচারপতিরা প্রতি সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পুরোনো মামলা নিষ্পত্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন।
আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একদিনে প্রায় আট হাজার পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৪২ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তির ঘটনা দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে দীর্ঘদিনের মামলা জট কমিয়ে বিচারপ্রার্থীদের জন্য দ্রুত বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
