
নিজস্ব প্রতিবেদক : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের সরকারি চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)। তার বিদায়কে ঘিরে প্রশাসনে যেমন নতুন সচিব নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনি দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, অবসরের পর চুক্তিভিত্তিক সচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকার জন্য মো. নজরুল ইসলাম চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ফলে এখন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী সচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে সচিবালয়জুড়ে আলোচনা চলছে।
সূত্রগুলো জানায়, সম্ভাব্য সচিব হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঢাকার সাবেক বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আব্দুর রহমান তরফদার এবং গণপূর্তের প্রশাসন অনুবিভাগ-২-এর অতিরিক্ত সচিব সারোয়ার আলমের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

মো. নজরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ছিলেন।

প্রশাসন ক্যাডারের ১১তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনকালে রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিভিন্ন সময় আলোচনায় আসেন।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের অভিযোগ, সচিবের দায়িত্বকালে বদলি, পদায়ন, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাববলয় গড়ে ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং অভিযোগগুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন জমির নিষ্কণ্টক তালিকা প্রস্তুত এবং জমি-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে ওঠে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে আদালতে প্রমাণিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি এবং এ বিষয়ে মো. নজরুল ইসলামের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনিক মহলে তার অতীত কর্মজীবন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন মেয়র হাসিনা গাজীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তবে এ তথ্য থেকে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, নিয়োগ, বদলি, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। যদিও এসব অভিযোগের অনেকগুলোরই এখনো আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হয়নি।
এদিকে সচিবের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। নতুন সচিবের সামনে রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রশাসনিক সংস্কার, সুশাসন নিশ্চিত করা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
