মেডিকেল রিপোর্টে তথ্য গোপনের অভিযোগ: লালমনিরহাটে ভূক্তভোগী নারী ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন

Uncategorized গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন রংপুর সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

আরমান হোসেন রাজু, (রংপুর)  :  লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ‘নরমাল’ বা স্বাভাবিক মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার প্রতিবাদে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

বিতর্কিত এই মেডিকেল সনদ বাতিল ও অভিযুক্ত চিকিৎসকদের শাস্তির দাবিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী নারী তানিজা বেগম ও এলাকাবাসী।

​বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী পরিবার ছাড়াও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

​মানববন্ধনে স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, গত ২০ জুলাই প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন তানিজা বেগম। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসার একপর্যায়ে তার তিন মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।


বিজ্ঞাপন

তবে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে যে মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) দেওয়া হয়, সেখানে আসল তথ্য গোপন করে ঘটনাটিকে ‘নরমাল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই জালিয়াতির কারণে ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনি প্রতিকার ও বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন

​মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে বিতর্কিত রিপোর্টটি বাতিল করে সঠিক মেডিকেল সনদ দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত চিকিৎসক ও মূল হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

​নিজের সন্তান হারানোর বিচারে আকুতি জানিয়ে ভুক্তভোগী তানিজা বেগম বলেন, “আমি আমার গর্ভের সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সাথে যারা টাকার বিনিময়ে বা প্রভাব খাটিয়ে মেডিকেলের রিপোর্ট পরিবর্তন করেছে, তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

​এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আলী রাজিব মোহাম্মদ নাসের জানান, অভিযোগের বিষয়টি হস্তগত হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

​অন্যদিকে লালমনিরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম জানান, ভুক্তভোগীর প্রাথমিক চিকিৎসার কাগজপত্রে অন্তঃসত্ত্বা (প্রেগনেন্সি) থাকার প্রমান রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে সঠিক এমসি রিপোর্টের দাবিতে জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত আবেদনও করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

👁️ 20 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *