
আশরাফুজ্জামান, (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বিয়েকে বৈধ রূপ দিতে নাম পরিবর্তনের অভিযোগে এক দম্পতির বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সালিশে বরকে মারধর এবং কান ধরে উঠবস করানোর পাশাপাশি তওবা পড়ানোর ঘটনা ঘটেছে।

আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাদ জুমা উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
কাবিননামা সূত্রে জানা যায়, বরিশাল গ্রামের ইব্রাহীমের মেয়ে চাঁদনী আক্তার (যিনি কাবিননামায় নাম পরিবর্তন করে রাসেল নাম ব্যবহার করেন) গত ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পলাশবাড়ী পৌরসভার হিজলগাড়ী গ্রামের তাজু মিয়ার কন্যা লাবনী আক্তারকে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর জানা যায়, বর চাঁদনী ও কনে লাবনী উভয়েই সমকামী এবং নিজেদের এই সম্পর্ককে বৈধ ও ধামাচাপা দিতেই বর নাম পরিবর্তন করে রাসেল সেজে মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরের সমকামী আচরণের বিষয়টি প্রথমে টের পান তার বাবা ইব্রাহিম খলিল। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় শুরু হয়। এর জেরে আজ বাদ জুমা বিষয়টি সুরাহা করার জন্য বরিশাল গ্রামের লোকজনের উদ্যোগে একটি সালিশ বৈঠক বসে।

বিজ্ঞাপন
উক্ত সালিশে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মসজিদ কমিটির লোকজন উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সালিশ চলাকালে বর রাসেলকে (চাঁদনী) মারধর করা হয় এবং কান ধরে উঠবস করানো হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সালিশে উপস্থিত পলাশবাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজ আহমেদ জানান, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করার স্বার্থে এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ওই ব্যক্তিকে (চাঁদনী) তওবা পড়ানো হয়েছে।
