
নিজেস্ব প্রতিবেদক : শেরপুরের পুলিশ সুপার এ. কে. এম. জহিরুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় নালিতাবাড়ীতে রাতভর অভিযান চালিয়ে সাভারের আশুলিয়া থেকে নিখোঁজ হওয়া ১২ বছরের এক শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পরিবারের আবেদনের পর শিশুটির সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইনী সহায়তা কেন্দ্র আসক ফাউন্ডেশন।
পরিবার ও আসক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে পরিচিত এক ছেলের প্রলোভনে শিশুটিকে আশুলিয়া থেকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শিশুটির পরিচয় গোপন রাখতে তাকে ‘আশা’ ছদ্মনামে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেয়ের সন্ধান না পেয়ে আশার বাবা আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর মেয়েকে উদ্ধারের জন্য আইনী সহায়তা কেন্দ্র আসক ফাউন্ডেশনে সহায়তার আবেদন জানান। আবেদন পাওয়ার পর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. শাহাদাৎ হোসেন শাওন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির সন্ধানে উদ্যোগ নেন।

প্রশাসনের সহযোগিতায় শিশুটির লাইভ লোকেশন শনাক্ত করে দেখা যায়, সে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানা এলাকায় অবস্থান করছে। এরপর আইনী সহায়তা কেন্দ্র আসক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি আশুলিয়া থানাকে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধারে সহযোগিতা চেয়ে শেরপুরের পুলিশ সুপার এ. কে. এম. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

বিজ্ঞাপন
শিশুটির অবস্থান ও পরিবারের অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর পুলিশ সুপার প্রয়োজনীয় পুলিশি সহযোগিতা ও সার্বিক আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। তাঁর সার্বিক দিকনির্দেশনায় নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জের পরামর্শে উপপরিদর্শক চন্দনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি ভ্রাম্যমাণ দল অভিযানে নামে। রাতভর পরিচালিত এ অভিযানে আসক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের একটি দল সহযোগিতা করে। অভিযান শেষে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার কার্যক্রমে পুলিশ সুপার এ. কে. এম. জহিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনা এবং নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ রক্ষায় কাজ করে আসক ফাউন্ডেশন। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. শাহাদাৎ হোসেন শাওন পরিবারের আবেদন পাওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের সমন্বয় করেন।
পরিবারের আইনি সহায়তার আবেদন থেকে শুরু করে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত এবং উদ্ধার অভিযান পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশ ও আসক ফাউন্ডেশন একসঙ্গে কাজ করে। আশুলিয়া ও নালিতাবাড়ী—দুই থানা এলাকার মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।
