প্রশাসনের সামনে রাজনীতির প্রত্যাবর্তন ? রুমিন ফারহানার ‘রুদ্রমূর্তি’ এবং বদলে যাওয়া ক্ষমতার সমীকরণ

Uncategorized জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুদিন পর এক নাটকীয় দৃশ্য দেখা গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জেলা প্রশাসনের এক সহকারী কমিশনারের সঙ্গে প্রকাশ্যে তর্কে জড়ান এবং জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তোলেন।


বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তিনি দাবি করেন— একই নিয়ম অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে হবে। এই ঘটনাকে অনেকেই দেখছেন প্রশাসন বনাম রাজনীতি সম্পর্কের নতুন এক ইঙ্গিত হিসেবে।

গত এক দশকে বাংলাদেশে ক্ষমতার ভারসাম্য ধীরে ধীরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে প্রশাসনিক কাঠামোর দিকে সরে গিয়েছিল— এমন অভিযোগ বহু রাজনৈতিক দলের। রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই মনে করতেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত, সিদ্ধান্তের কেন্দ্র রাজনীতির বদলে আমলাতন্ত্রের হাতে চলে গিয়েছিল। এই বাস্তবতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাটি অনেকের চোখে প্রতীকী।


বিজ্ঞাপন

একজন রাজনৈতিক নেত্রী যখন মাঠ প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান, তখন সেটিকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা কঠিন। বরং এটি ইঙ্গিত দেয়— রাজনীতির মাঠে নেতৃত্ব আবার দৃশ্যমান হতে চাইছে।


বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই স্থবিরতা ভাঙার প্রয়াস হিসেবেও অনেকে এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করছেন।

রুমিন ফারহানা বরাবরই স্পষ্টভাষী রাজনৈতিক চরিত্র হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক ঘটনায় তাঁর দৃঢ় অবস্থান সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ। আবার সমালোচকদের মতে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

যাই হোক, একটি বিষয় পরিষ্কার— বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য নতুন করে পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত মিলছে। প্রশাসন ও রাজনীতির সম্পর্ক কোন পথে যাবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোর রাজনৈতিক আচরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংযমের ওপর। ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে— এটি কি কেবল একটি তাৎক্ষণিক উত্তেজনা, নাকি রাজনীতির মাঠে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা? সময়ই দেবে উত্তর।

👁️ 23 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *