বিদায়ের ক্ষণে ইতিহাসের হিসাব : কেন অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারই বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল সরকার ?

Uncategorized আইন ও আদালত ইতিহাস ঐতিহ্য জাতীয় প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আর মাত্র ১২ দিন। এরপর বিদায় নেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর তখনই শুরু হবে ইতিহাস বিকৃতির প্রতিযোগিতা। কারণ এটাই বাংলাদেশ— যেখানে কাজ করলে গালি, আর লুট করলে তালি। ভুল ছিল, কিন্তু প্রেক্ষাপট বুঝতে হবে, হ্যাঁ, এ সরকার ভুল করেছে। সীমাবদ্ধতা ছিল। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি—এটা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই।


বিজ্ঞাপন

কিন্তু প্রশ্ন হলো— যে দেশে পুলিশ বাহিনীর বড় একটি অংশই বর্তমান সরকারকে মানতে চায় না, যেখানে কনস্টেবল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ চলে, সেখানে এক বছরে আইনশৃঙ্খলা “যাদুর মতো” ঠিক করার প্রত্যাশা কতটা বাস্তবসম্মত? আর বিচার নিশ্চিত না হওয়ার দায় কি সরকারের, নাকি বিচারকের ?

সরকার হস্তক্ষেপ করলে বলা হতো  “ইউনুস সরকার গণতন্ত্র ধ্বংস করছে।” সরকার চাপ না দিলে বলা হচ্ছে— “কিছুই করতে পারেনি।” এই দ্বিচারিতা কি কাকতালীয় ? লীগের দোসরদের পুলিশ ধরে, দু’দিন পর আদালত জামিন দেয়— এখানে নৈতিকভাবে সরকারের আর কী করার ছিল? অবাস্তব প্রত্যাশার বোঝা, হাসিনা পালানোর পর বহু মানুষ ভেবেছিল—ড. ইউনুস এসে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে আমেরিকা বা ইউরোপ বানিয়ে ফেলবেন।


বিজ্ঞাপন

কিন্তু বাস্তবতা কী বলে ? এক বছরের মধ্যে একটি রাষ্ট্রে কতটুকু দৃশ্যমান পরিবর্তন সম্ভব?  তবুও চেষ্টা কম ছিল না। কিন্তু যতবার সরকার সংস্কারের চেষ্টা করেছে, ততবারই বাধা এসেছে— পলিথিন বন্ধ করতে গেলে আন্দোলন, সেন্ট মার্টিন বাঁচাতে গেলে বিশৃঙ্খলা, বন্দর দুর্নীতিমুক্ত করতে গেলে কর্মবিরতি, আমলাতন্ত্র সংস্কারে গেলে নীরব প্রতিরোধ, তাহলে প্রশ্ন— এই সরকার আসলে কার সহযোগিতা পেয়েছে? কিন্তু সমস্যা হলেই দুই মিনিট দেরি না করে গালি দিতে আমরা ওস্তাদ।


বিজ্ঞাপন

দৃশ্যমান উন্নয়ন নয়, কাঠামোগত উদ্ধার : এই সরকার চাইলে আগের মতো চকচকে প্রকল্প দেখাতে পারতো। চাইলে লোক দেখানো উন্নয়ন করে অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারতো। কিন্তু তারা তা করেনি। তারা কাজ করেছে নীরবে, গভীরে, কাঠামোর ভেতরে— যেখানে সাধারণত কেউ হাত দিতে চায় না।

ফলাফল ? হাসিনা ও তার গোষ্ঠীর লুট করা ৮টি ব্যাংক রক্ষা, লোকসানি স্যাটেলাইট থেকে এই প্রথম রাষ্ট্রের লাভ, বাংলাদেশ বিমানের ইতিহাসের সর্বোচ্চ মুনাফা, চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়, হাজার হাজার কোটি টাকা অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্প থেকে সাশ্রয়, বৈদেশিক বিনিয়োগে নতুন আস্থা, রিজার্ভের পুনরুদ্ধার।

এগুলো কি গল্প ? নাকি নথিভুক্ত বাস্তবতা ? এক বছরে যে কাজ এই সরকার করেছে, অনেক সরকার পাঁচ বছরেও সাহস পায়নি— ভবিষ্যতেও পাবে কিনা সন্দেহ। সবচেয়ে বড় অর্জন: জাতীয় মর্যাদা সবকিছুর ঊর্ধ্বে একটি বিষয়— বাংলাদেশের মানসম্মান, আত্মমর্যাদা ও কূটনৈতিক দৃঢ়তা।

এই সরকারের সময় বাংলাদেশ যেভাবে ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে  :  যেভাবে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে— তা কি আগে কখনো দেখেছেন ? সৎভাবে বলুন— ভবিষ্যতেও দেখবেন? গণ-অভ্যুত্থানের পরেও আমরা ভাঙিনি একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর সাধারণত একটি দেশ— অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ে সামাজিকভাবে অস্থির হয় রাষ্ট্রযন্ত্র অচল হয়ে যায়
বাংলাদেশ কি তার ১%ও ভোগ করেছে? না। এর পেছনে ছিল এই সরকারের নিরলস পরিশ্রম।

শেষ কথা : এই সরকার আরও সময় পেলে, আরও সহযোগিতা পেলে, আরও অনেক কিছু করা সম্ভব হতো। কিন্তু সীমিত সময়েও তারা ভবিষ্যতের জন্য ভিত তৈরি করে গেছে।

আজ মিডিয়া ট্রায়াল আর রাজনৈতিক অজ্ঞতার কারণে যদি কেউ বলে—“হাসিনার আমলেই দেশ ভালো ছিল” তাহলে বুঝতে হবে— ইতিহাস লেখা হচ্ছে না, ইতিহাস বিক্রি হচ্ছে। আর সেই বিক্রির বিরুদ্ধে সত্য বলার দায় থেকেই বলতে হয়—অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকার ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম—হ্যাঁ, অন্যতম নয়—সবচেয়ে সফল সরকার।

👁️ 24 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *