
নিজস্ব প্রতিনিধি (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা বাঘের বাজার এলাকা যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে সহিংস রাজনীতির উন্মুক্ত মঞ্চে। নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যত পদদলিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় ধানের শীষের সমর্থক যুবদল নেতা মাহাবুল আলম ও হাফিজুল ইসলাম শিমুল গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই বাস্তব রূপ দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিকল্পিত হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে দু’জনই সেখানে চিকিৎসাধীন, অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই জানা গেছে।
এই হামলা নিছক বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়—বরং এটি নির্বাচনী পরিবেশকে ভীতিকর করে তোলার একটি কৌশলগত প্রয়াস বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতিসচেতন মহল। প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের আগে কেন এভাবে প্রতিপক্ষকে দমন করার চেষ্টা? কেন ভোটের মাঠে যুক্তি ও জনপ্রিয়তার বদলে লাঠি-সন্ত্রাসই হয়ে উঠছে প্রধান অস্ত্র?

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে নীরবতা। আচরণবিধি লঙ্ঘনের এমন প্রকাশ্য ঘটনার পরও যদি দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে তা পক্ষদুষ্ট রাজনীতির অভিযোগকে আরও জোরালো করবে—এটাই এখন সাধারণ মানুষের আশঙ্কা।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এটি শুধু দু’জন নেতার ওপর হামলা নয়, এটি একটি প্রতীকের ওপর আঘাত। ভোটারদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গণতন্ত্রের নামে যদি সহিংসতা চলে, আচরণবিধি যদি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই নির্বাচন কার জন্য, কাদের স্বার্থে? ভালুকার ঘটনা সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিল।
