মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গভীর শ্রদ্ধা ও অঙ্গীকারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের 

Uncategorized আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  : মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতি জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ভাষার মর্যাদা, সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য এবং জাতিগত পরিচয়ের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে এই দিনটি এক অনন্য প্রেরণার উৎস হিসেবে পুনরায় স্মরণ করা হয়েছে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের সঙ্গে।


বিজ্ঞাপন

১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি জানানো হয়েছে গভীর শ্রদ্ধা। এদিন মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে জীবন দেন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ আরও অনেকে।

তাঁদের আত্মত্যাগ বাঙালির ইতিহাসে রচনা করে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ভাষার অধিকারের দাবিতে রক্তদানের সেই ঘটনা শুধু একটি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেনি, বরং তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুক্তি আন্দোলনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।


বিজ্ঞাপন

একুশে ফেব্রুয়ারি তাই কেবল একটি স্মরণদিবস নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার উজ্জ্বল প্রতীক। ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত পথ ধরেই বাঙালি জাতি এগিয়েছে স্বাধিকার আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের দিকে, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ।


বিজ্ঞাপন

মাতৃভাষা বাংলা আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন—আমাদের সংস্কৃতি, সাহিত্য ও চেতনার ভিত্তি। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে একুশের চেতনা আজ বিশ্বব্যাপী সকল ভাষার মর্যাদা ও সংরক্ষণের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতার আদর্শ ছিল একুশের মূল প্রেরণা। সেই চেতনাকে ধারণ করেই দেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ভাষা শহীদ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী সকলের স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারও উচ্চারিত হয়েছে।

একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ভাষাবৈচিত্র্য রক্ষা ও সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশের ভেতরে বিদ্যমান বিভিন্ন ভাষা ও উপভাষার সংরক্ষণ, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা এবং সর্বস্তরে বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

মহান এই দিনে সকল ভাষা শহীদের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে এবং দিবসটি উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা প্রত্যাশা করা হয়েছে। একুশের অমর চেতনা বাঙালির পথচলায় চিরকাল অনুপ্রেরণা জোগাবে—এই প্রত্যয়ই পুনর্ব্যক্ত হয়েছে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার দৃঢ়

👁️ 99 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *