
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : মহেশপুর উপজেলা–এর বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ হামলার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শামছুজ্জামান ভুট্রো অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রথমে তার কাছে ১ লাখ টাকা এবং পরে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি পূরণ না করায় তার ওপর ও তার পরিবারে হামলা চালানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল্লা, আব্দুল জব্বার ও হান্নান ওরফে বাবলুর নেতৃত্বে শামছুজ্জামান ভুট্রো, তার স্ত্রী ও কন্যাকে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন বলে পরিবারটির দাবি। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চাঁদাবাজি নাকি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের লড়াই ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি চাঁদাবাজির অভিযোগ নয়—এটি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশও হতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্রবণতা নতুন নয়।

প্রশ্ন উঠছে— স্থানীয় নেতৃত্ব কি দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে?
দল কি এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে?
নাকি এসব ঘটনাই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে?

বিএনপির ভাবমূর্তির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু যদি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা দলের কেন্দ্রীয় অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি দ্রুত তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেয়, তবে বিরোধী পক্ষ এই ঘটনাকে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে পারে।
প্রশাসনের ভূমিকা কোথায় ? এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—“রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধী হিসেবে বিচার হোক।”
বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট : গ্রামাঞ্চলে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব অনেক সময় সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। নির্বাচন-পরবর্তী সময় বা ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের চাঁদা দাবি ও সহিংসতার অভিযোগ বাড়তে দেখা যায়।
এই ঘটনা তাই কেবল একটি গ্রামের পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়—এটি স্থানীয় রাজনীতির নৈতিক সংকট, সাংগঠনিক শৃঙ্খলার দুর্বলতা এবং আইনের শাসনের চ্যালেঞ্জের প্রতিচ্ছবি।
উপসংহার : ঝিনাইদহ জেলা–র এই ঘটনাটি এখন স্থানীয় রাজনীতিতে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি হবে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সংঘটিত এক গুরুতর অপরাধ, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও হবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার একটি কৌশল। সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা—এই তিনটিই এখন সময়ের দাবি।
