!! মন্তব্য প্রতিবেদন !! মির্জা আব্বাস মাইনাস ‘ বিএনপির হবে সর্বনাশ  : মির্জা আব্বাসেরমত একজন ভদ্র ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদকে আমরা হারাতে চলেছি ?

Uncategorized ইতিহাস ঐতিহ্য জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

আব্দুল হালিম ঢালী :  মির্জা আব্বাস। পুরো নাম মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। দেশের মানুষ তাকে মির্জা আব্বাস নামেই চেনেন। মির্জা আব্বাসের বয়স বর্তমানে ৭৫ বছর। অর্থাৎ আমার চেয়ে তিনি দুই বছরের বড়। আমার বয়স বর্তমানে ৭৩ বছর। আমি মির্জা আব্বাসকে চিনি ৫৭ বছর যাবত। আমি কৈশোর সময় থেকেই মতিঝিল এজিবি কলোনিতে বড় হয়েছি। বর্তমানে মুগদায় বসবাস করছি। সেই ছোটবেলা থেকেই মির্জা আব্বাসকে আমার চেনা ও জানা।


বিজ্ঞাপন

আমি ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলাম। তৎকালীন রমনা থানা এখন ভাগ হয়ে মতিঝিল, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, পল্টন, শাহজানপুর ও শাহবাগসহ বেশকিছু থানা সৃষ্টি হয়েছে। তৎকালীন রমনা থানা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বেই আমরা দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। তখন রমনা থানা আওয়ামী লীগের মুল নেতৃত্বে ছিলেন মরহুম গাজী গোলাম মোস্তফা ও মোজাফফর হোসেন পল্টু ।

পরের সারির নেতা ছিলেন এমুহূর্তে যাদের নাম মনে পড়ছে তাদের মধ্যে অন্যতম মালিবাগের আবুল হাসেম পাহাড়ি, কমলাপুরের বাইজিদ, গনী সরদার, ঠাকুর পাড়ার মোশাররফ হোসেন মঞ্জু, মুগদার নজিবুল হক সরদার, আব্দুর রহমান, শাহজাহানপুরের কাদের বেপারী, ফকিরেরপুলের জবেদ আলী, মতিঝিলের সরদার আব্দুল কাইয়ুম, আরজাদ হোসেন খান আজাদ, মোঃ ইয়ুসুব, ইদ্রিস খান ও মোঃ মুসলিমসহ আরো অনেকে।


বিজ্ঞাপন

আমার সহকর্মী আলমগীর সরদার, জাহাঙ্গীর সরদার, সহিদ চৌধুরী, অহিদ চৌধুরী, সাদী, আলী, বিল্লাল, সিরাজ এবং আমিসহ অনেকেই তৎকালীন সময়ে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন করেছি। কারফিউ ভঙ্গ করে তৎকালীন গভর্নর হাউস (বর্তমানে বঙ্গভবন) ঘেরাও করতে গিয়ে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছি। দৈনিক পাকিস্তান ও মর্নিং নিউজ পত্রিকা অফিসে আগুন দিয়েছি।


বিজ্ঞাপন

আমি একজন সেই আন্দোলনের অগ্রণী সৈনিক হিসেবে মতিঝিল এজিবি কলোনি ও আশেপাশের অনেককেই চিনতাম এবং জানতাম। তেমনি মির্জা আব্বাসকেও চিনি। মির্জা আব্বাস তখন উঠতি বয়সের যুবক। আমার জানামতে তিনি তখন কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী বা নেতা ছিলেন না। একজন মুক্তিকামী ও স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষের সমর্থক ছিলেন। সেকারণেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর বীর প্রতীক এর অধীনে যুদ্ধ করেছেন। মির্জা আব্বাস এর পিতা মির্জা আব্দুর রাজ্জাক সাহেবকেও আমি চিনি।

তাকে আমি নানা বলে সম্মোধন করতাম। আমার দুর সম্পর্কের নানা আব্দুস সামাদ খান এর সাথে মির্জা আব্বাস সাহেবের বাবা মির্জা আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের খুবই ভালো সম্পর্ক ছিলো। আব্দুস সামাদ খান মতিঝিল সরকারি প্রাইমারি স্কুলের সিকিউরিটি গার্ড ছিলেন। স্কুলটি ছিলো শাহজাহানপুর মোড় থেকে রাস্তার দক্ষিণে প্রায় চার থেকে পাঁচশো গজের মধ্যে। ঐ মোড়েই মির্জা আব্বাস সাহেবের পিতা হাজী আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের হোটেল ছিলো। সেই হোটেলটি আজও আছে।

আমার নানা সামাদ খান প্রায়ই ঐ হোটেল চা-নাস্তা খেতেন। আমিও নানার সাথে সেই হোটেলে যেতাম। একারণেই আব্দুর রাজ্জাক সাহেব আমাকে নাতী বলে ডাকতেন এবং দুষ্টুমিও করতেন। আমাকে অনেক সময় ফ্রীতে সিঙ্গাড়া ও পরোটার নাস্তা খাওয়াতেন। তিনি ছিলেন অতিশয় দয়ালু ও হ্নদয়বান মানুষ। তিনি অসহায় ও ক্ষুধার্থ মানুষ যার কাছে কোনো টাকা-পয়সা নেই, তাকেও ফ্রিতে ভাত ও নাস্তা খাওয়াতেন। তিনি খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। ১৯৭৭ সালের কথা। দিন-তারিখ মনে নেই। তখন ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছিলো। একদিন বিকালে জিয়াউর রহমান শাহজানপুরে আসলেন।

শাহজাহানপুর মোড় থেকে একটু এগিয়ে বাসাবো রেল গেটের দিকে যে রাস্তাটি গিয়েছে, সেই রাস্তাটির উত্তর পাশে ছোট্ট একটি খোলা মাঠ (পূর্বে সেটি বস্তি ছিলো) সেই বস্তির খোলা জায়গাটির পূর্বদিকে ফেরানো একটি ছোট্ট মঞ্চে দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমান মির্জা আব্বাসকে হাত তুলে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, আমি আপনাদের এলাকায় মির্জা আব্বাসকে কমিশনার হিসেবে নমিনেশন দিয়েছি। আপনাদের সন্তান মির্জা আব্বাসকে ভোট দিয়ে কমিশনার নির্বাচিত করবেন।

তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে আরো অনেক কথা বলেছেন। শুনে খুবই ভালো লেগেছে। আমি সেদিন মঞ্চের নিকটে ছিলাম। এর কয়েকদিন পর জিয়াউর রহমান মতিঝিল টিএন্ডটি কলেজ মাঠে এক জনসভায় আসেন। সেই সভায়ও আমি মঞ্চের সামনে ছিলাম। জিয়াউর রহমানকে আমি চার পাঁচবার খুব কাছ থেকে দেখেছি।

সবচেয়ে মজার ঘটনা হলো, আমি মির্জা আব্বাসকে দেখলে ভাই বলে সম্মোধন করতাম। এটা ছিলো আমার জন্য বিব্রতকর বিষয়। কারণ আমি মির্জা আব্বাস সাহেবের বাবাকে নানা বলে সম্মোধন করতাম। সেই হিসেবে মির্জা আব্বাসকে আমার মামা বলে ঢাকা উচিৎ ছিলো। অথচ আমি অন্যদের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে মির্জা আব্বাসকে ভাই হিসেবেই সম্মোধন করতাম।

আমার মনে আছে সেই সময়ের নির্বাচনে মির্জা আব্বাসের সমসাময়িক কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন মতিঝিলের মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ সাবু, গোপীবাগের সাদেক হোসেন খোকা ও মুগদার কদম আলীসহ আরো অনেকে। মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ সাবু ও সাদেক হোসেন খোকা রাজনীতি করতেন বাম ঘরনার বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন।

অপরদিকে কদম আলী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন।
১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বিএনপি নামে রাজনৈতিক দল গঠন করলে তারা সবাই বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত হন।
মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ সাবু একসময় বিএনপি অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব হন।
সাদেক হোসেন খোকাও বিএনপির নেতা থেকে মন্ত্রী হন।
মির্জা আব্বাস বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নে একজন সদস্য।
একসময় তিনি বিএনপির অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হন।

মির্জা আব্বাস কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি এবং বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঐ সময়টায় বিএনপির সবচাইতে শক্তিশালী সংগঠন ছিলো যুবদল। শক্তিমত্তায় বিএনপির পরেই ছিলো যুবদল।

মির্জা আব্বাস যুবদলের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই তার নাম সারা বাংলাদেশের প্রত্যন্তঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন তখন থেকেই মির্জা আব্বাস জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন। জিয়াউর রহমান বিভিন্ন দলের বাছাই করা নেতাদের এনে দল গঠন করেছিলেন। তার মধ্যে সিংহভাগই ছিলো ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানীর)

বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষই কোন না কোন দলের সাথে জড়িত ছিলেন। তাই বিএনপি গঠনও হয়েছে বহু দলের ও মতের মানুষদের নিয়ে। কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা, থানা ও ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সবাই ছিলেন বিভিন্ন দল থেকে আগত। তখন একমাত্র মির্জা আব্বাসই ছিলেন খাঁটি ও সাচ্চা জাতীয়তাবাদী চেতনার ও জিয়ার আদর্শের বিশ্বাসী ব্যক্তি। মির্জা আব্বাস যুবদলের সভাপতি থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হন। এরপর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন মির্জা আব্বাস। হয়েছেন অবিভক্ত ঢাকার মেয়র, হয়েছেন মন্ত্রীও। বর্তমানে মির্জা আব্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা।

তার মেধা, যোগ্যতা ও দুরদর্শিতায় তাকে এপর্যন্ত নিয়ে এসেছে।
এই জন্যই হয়তো বিএনপির অনেক নেতা তাকে নিয়ে হিংসায় জ্বলে। মির্জা আব্বাসকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু তারা কেউ সফল হতে পারেনি। বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই মির্জা আব্বাস তার সাংগঠনিক শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। এযাবতকাল পর্যন্ত মির্জা আব্বাসকে নিয়ে যতো ষড়যন্ত্র হয়েছে, তা তার দলের ভিতর থেকেই হয়েছে।

কিন্তু মির্জা আব্বাস ধৈর্যের সাথে তা মোকাবেলা করেছেন। মির্জা আব্বাসকে তার অবস্থান থেকে একচুলও সরাতে পারেনি কেউ। মির্জা আব্বাসের বিএনপির রাজনীতির বয়সও ৪৮ বছর পেরিয়ে গেছে। মির্জা আব্বাসের সমমনা অনেকের সাথেই আমার কমবেশি পরিচয় আছে। তাদের মধ্যে অনেকেরই দোষত্রুটি আছে। কিন্তু মির্জা আব্বাস এযাবতকালে তার চরিত্রে কোন কালীমা লাগতে দেননি। তার মাঝে কোন বদ অব্যাশ নেই। তিনি ধুমপান পর্যন্ত করেননা। কোনদিন মদ পান করেননি। বাজে কোন কাজেও সে জড়িত হননি।

রাজনীতিবিদদের নামে নারী কেলেংকারীর ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। এরকম অনেক খবর মিডিয়াসহ নানাভাবে প্রচার হয়। এদিক থেকে মির্জা আব্বাস একদম পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র একজন মানুষ। তিনি নারীদের খুবই সন্মান করেন। তিনি নারীদের মা-বোনের নজরে দেখেন। তার সামনে কোন নারী-পুরুষ সামান্যতমও দৃষ্টিকটু আচরণ করতে সাহস পায়না। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী এমনকি সাধারণ মানুষও মির্জা আব্বাসকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা ও সন্মান করেন।

একসময় বৃহত্তর রমনা, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাসহ আশে-পাশের এলাকার সিনিয়র নেতা ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী মরহুম গাজী গোলাম মোস্তফা ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু। মোজাফফর হোসেন পল্টুকে আওয়ামী লীগ বহুবার বহিষ্কার ও নিস্ক্রিয় করে রেখেছে। আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে শেখ হাসিনা মোজাফফর হোসেন পল্টুকে শান্তনা হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বহীন পদ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য করে রেখেছেন। মোজাফফর হোসেন পল্টু এখন রাজনীতিতে এক্কেবারে নিস্ক্রিয়।

অত্র এলাকায় আওয়ামী লীগের জাদরেল জাদরেল অনেক নেতা-কর্মী থাকলেও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সমকক্ষ আর কেহ নেই। যদিও আছেন সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। কিন্তু তিনি রাজনীতিতে মির্জা আব্বাসের অনেক জুনিয়র। সাবের হোসেন চৌধুরীর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আগমন ১৯৯৬ সালে।

এ অঞ্চলে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন, তারা সবাই মির্জা আব্বাসকে যথেষ্ট সন্মান ও শ্রদ্ধা করেন। অত্র এলাকার কোন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মির্জা আব্বাসকে গালি দেওয়াতো দুরের কথা, কোন প্রকার অশালীন মন্তব্য বা কটুক্তিও করেনি। এমনকি মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি সাবের হোসেন চৌধুরীও মির্জা আব্বাসকে নিয়ে কোন প্রকার বাজে মন্তব্য করেননি।

মির্জা আব্বাসের মুখের দিকে তাকালে প্রতিটি মানুষের কেমন যেনো আলাদা একটি অনুভূতি সৃষ্টি হয়। তারা মনে করেন মির্জা আব্বাসকে শ্রদ্ধা বা সন্মান না করলে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। মির্জা আব্বাসের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় মাথাটা নিচু হয়ে আসে অত্র এলাকার মানুষের। মির্জা আব্বাসও দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ভালোবাসেন এবং শ্রদ্ধা করেন।

অথচ ত্রয়োদশ নির্বাচনের পূর্বে ও তার পরবর্তী কাল থেকে নতুন গজিয়ে ওঠা একটি দলের অবাঞ্চিত ব্যক্তিরা মির্জা আব্বাসকে নিয়ে নানান অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েই চলেছে। তাদের উদ্যত্বপুর্ণ আচরণে শুধু বিএনপির নেতা-কর্মীদের হ্নদয়েই আঘাত লাগেনি। আঘাত লেগেছে এলাকার জনসাধারণসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মনেও।

মির্জা আব্বাসকে চাঁদাবাজসহ তার পরিবারকে নিয়েও কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য করে চলেছে নতুন গজিয়ে ওঠা দলের অবাঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। যা আজও অব্যহতভাবে করে যাচ্ছে। কিন্তু মির্জা আব্বাস তারপরেও অসীম ধৈর্য্যসহকারে তা হজম করে যাচ্ছেন।

মির্জা আব্বাস ঐ সকল অবাঞ্চিতদের কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্যের ধকল সইতে না পেরে শেষপর্যন্ত তিনি ১১ মার্চ ২০২৬ইং তারিখে ইফতার করার সময় স্ট্রোক করেন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপালে ভর্তি করা হয়। ১৩ মার্চ ২০২৬ইং তারিখ রাতে তার ব্রেইনে অস্ত্রপচার করা হয়। দুই দুই বার অস্ত্রপচার করা হলেও তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুরে এখনো তার চিকিৎসা চলছে।

মির্জা আব্বাসের অসুস্থতা নিয়েও গজিয়ে ওঠা ঐ নতুন দলের অবাঞ্চিত নেতা-কর্মীরা ট্রল করে যাচ্ছে! কোনো সুস্থ মানুষ একজন মৃত্যু পথযাত্রীকে নিয়ে ট্রল করতে পারে না। তারপরেও তারা তাই করে চলেছে।

মির্জা আব্বাস একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তার পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার বিখ্যাত মির্জা পরিবারের সন্তান মির্জা আব্বাস। তার পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা উচ্চ পর্যায়ের। হোসেনপুর ও ঢাকায় তাদের রয়েছে অঢেল সম্পদ। ঢাকার শাহজাহানপুর, ফকিরেরপুল, শহিদবাগ, মতিঝিল, খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার প্রচুর আত্মীয় স্বজন রয়েছেন। তারা সবাই উচ্চ পর্যায়ের এবং সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং উচ্চ পর্যায়ের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। তারা সবাই আভিজাত্য জীবন যাপন করেন। মির্জা আব্বাস শুধু একজন রাজনীতিবিদই নন। তিনি কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার নির্ভরযোগ্য অভিভাবকও বটে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই, মির্জা আব্বাস প্রায় দেড়মাস যাবত বাংলাদেশে ও সংসদে অনুপস্থিত। তিনি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। অথচ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে মধ্যম সারির এবং জেলা ও থানার কোনো নেতা অসুস্থ হলে তার সুস্থতার জন্য পার্টি অফিসে দোয়ার আয়োজন করা হয়। মির্জা আব্বাসতো একজন সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী। তারপরেও মির্জা আব্বাসেরমত একজন সাংসদের জন্য সংসদ হাউসে বা দলীয় কার্যালয়ে দোয়া বা মিলাদ পড়ানো হয়েছে বলে জানা নেই। তাহলে কি মির্জা আব্বাসকে বিএনপি মাইনাস করতে চাইছে?

👁️ 25 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *