শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ।নিজস্ব প্রতিবেদক  :  পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা এবং বর্তমানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিগত আওয়ামী শাসনামলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও টেন্ডার বাণিজ্য করে; অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে অঢেল সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়েরকৃত এক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়েরকৃত এক অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ কর্মজীবনের শুরু থেকে যখন যে কর্মস্থলে ছিলেন;সেখানেই ঘুষের হাট বসিয়েছেন। চাকরি জীবনে সকল কর্মস্থলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে; অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে; সরকারি অর্থ আত্মসাত করে ঢাকা ও নিজ জেলায় বাড়ি,প্লট,ফ্লাট,গাড়ি,খামার ও ব্যাংক ব্যালেন্সসহ অঢেল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। যা তার জ্ঞাত আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে যে,শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো জোনে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের (বিপিএ) ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময়ের প্রভাবশালী ও দাপুটে নেতা মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের ঢাকা মেট্রো জনে পদায়ন কে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহল তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে । ৩০ মার্চ, ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত আদেশের মাধ্যমে বিপিএ-র ফ্যাসিবাদের দোষের আলিফকে সাভার থেকে সরিয়ে ঢাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অফিসে বদলি করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সরিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবির মধ্যেই মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের মতো বিতর্কিত কর্মকর্তার এমন ‘প্রাইজ পোস্টিং’ সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের তল্পিবাহক আলিফ দাপটের সঙ্গে বিভিন্ন অপকর্মে সিদ্ধহস্ত ছিল। বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নানা ভাবে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই এসব ফ্যাসিবাদের দোসরদের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে


বিজ্ঞাপন

আগারগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন প্রধান কার্যালয় নির্মাণ কাজের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি দরপত্র বা টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ চলছে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এই বড় অংকের কাজ পাইয়ে দিতেই প্রায় ২ কোটি টাকার গোপন লেনদেনের মাধ্যমে আলিফকে সাভার থেকে পরিকল্পিতভাবে ঢাকায় আনা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে,সাভার জোনে দায়িত্ব পালনকালে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের বিরুদ্ধে পাহাড়সম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পে বাস্তবিক কাজের আগেই প্রায় ৩০ কোটি টাকার অগ্রিম বিল তুলে নেওয়ার অবৈধ সুযোগ করে দিয়েছিলেন দুর্নীতিবাজ মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ। এছাড়া সাভারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাধিক অসম্পূর্ণ ও নিম্নমানের কাজের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ছাড় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এর আগেও সহকারী প্রকৌশলী থাকাকালীন মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি অনায়াসেই পার পেয়ে যায় । অথচ তার অপকর্মের শাস্তির পরিবর্তে পদোন্নতি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

গত ৫ আগস্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন সংগ্রামের ফলে অ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলে বঙ্গবন্ধু পরিষদের শীর্ষ নেতাদের ওএসডি করা হলেও মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ অদৃশ্য কারণে আলিফের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেই নি। যার ফলশ্রুতিতে সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম চাপা খুব দেখা দিয়েছে ।

এই বিতর্কিত সিন্ডিকেটটি বর্তমানে অধিদপ্তরের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। যারা তাদের এই দুর্নীতির প্রতিবাদ করছেন, তাদের শুকৌশলে কোণঠাসা করা হচ্ছে। ফলে বিএনপি ও জামাতপন্থী হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী ও সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে দিন দিন ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্যে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের এর  মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার কোন প্রকার বক্তব্য প্রকাশিত হলো না। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা অত্র প্রতিবেদনে যোগ করা হবে।

👁️ 28 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *