
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি সংগৃহীত।

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের তিন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা বর্তমানে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন এবং তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন—এমন দাবি প্রকাশ করেছে একটি গণমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ বা ভারতের কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তা হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আকবর হোসেন এবং মেজর জেনারেল কবীর আহমেদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) এবং এর আগে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একই প্রতিবেদনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আকবর হোসেনের নামও এসেছে। তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক।
প্রতিবেদনে অতীতের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের কথা বলা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে কি না কিংবা এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে মেজর জেনারেল কবীর আহমেদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সাবেক সামরিক সচিব এবং ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য বা আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
গণমাধ্যমটির দাবি, এই তিন কর্মকর্তা বর্তমানে কলকাতার একটি সুরক্ষিত সামরিক এলাকায় অবস্থান করছেন। তবে এ দাবির সমর্থনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে ভারতীয় কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
প্রতিবেদনে আরও কয়েকজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। তাদের মতে, বিষয়টি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে এসব মন্তব্য সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন; এ বিষয়ে বাংলাদেশ বা ভারতের সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং নতুন তথ্য-প্রমাণ সামনে এলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।
